logo

বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

চালের বাজারে আবারও অস্থিরতা
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি আমন মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। এরইমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন চালও। সে হিসেবে দাম কমার কথা থাকলেও বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চালের দাম বেড়েছে তা নয়, বাড়িয়ে তোলা হয়েছে।

গেলো সপ্তাহের তুলনায় মঙ্গলবার ও বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দুই থেকে তিন টাকা বেশিতে চাল বিক্রি হতে দেখা যায়।

কারওয়ান বাজারে চালের আড়ৎদার মেসার্স খোরশেদ রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী খোরশেদ আলম জানান, আমন ধান কাটা হচ্ছে। ঘরে ঘরে নবান্নের আমেজ। বাজারেও উঠতে শুরু করেছে নতুন চাল। এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার কথা নয়। সিন্ডিকেট করে মিল মালিকরা কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা, নাজির শাইলের দাম বেড়ে ৬৬ টাকা থেকে ৭০ টাকা, মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের আরেক ব্যবসায়ী মেসার্স খোদার দান রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. কুদ্দুস খান বলেন, যারা ধানকে চাল বানায় তাদের উপর মূলত চালের বাজারের দর দাম নির্ধারণ করে। অর্থাৎ মিলাররা বা মোকামে চালের দাম না কমালে বাড়তেই থাকবে। এখন নতুন চাল বাজারে আসার মৌসুম। এ সময় চালের দাম বাড়ানো মানে সিন্ডিকেট করে মজুদ করছেন তারা।

তিনি আরো বলেন, সরকারের উচিত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে, এখনই আমদানি করা। এখন চাল আমদানি করলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। সরকার যদি এ দেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল না কিনে আমদানি করে তা হলে তিন লাখ টন চাল ব্যবসায়ীদের হাতেই থাকবে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে।

চাল ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকজন মৌসুমী চাল ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ নিয়ে এ সিজনে কম দামে ধান কিনছেন। কারো কারো প্রত্যেক জেলায় গোডাউন আছে। ধান কিনে গোডাউনে মজুদ করছেন। তারাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ান-কমান।

সরকারের মনিটরিং পর্যাপ্ত না বাড়ালে, চালের দাম না কমে উল্টো বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের চালের পাইকাররা।

এদিকে নতুন চাল আসার পরও চালের দাম না কমে উল্টো বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে। কারওয়ান বাজারে চাল কিনতে আসা হোটেল মালিক মঞ্জুর আলম বলেন, গেল কয়েকমাস চালের দাম বাড়ায় রীতিমত ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করেছে। অনেক হোটেল মালিক ভাতের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অনেকে দাম না বাড়িয়ে পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। এতে করে ক্রেতা ও হোটেল ম্যানেজারের মধ্যে বাকযুদ্ধ হচ্ছে। তার উপর বাজারে চাল কিনতে এসে দাম বাড়তি দেখছি।

মঞ্জুর আলমের সঙ্গে একই সুর মিলিয়ে বাজারে আসা অনেক ক্রেতা বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সবজির দাম বাড়ার পর চালের বাড়তি দাম হওয়ায় জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছি। সবাই আশা করছে নতুন মৌসুম আসলে চালের দাম কমে আসবে কিন্তু উল্টো দাম বেড়ে যাওয়া যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য চাল। যখন এই পণ্যের দাম বাড়তে থাকে তখন ভুগতে হয় দেশের প্রতিটি মানুষকে। নতুন চাল উঠার পরও চালের দাম বাড়ছে এতে বুঝতে হবে নিশ্চয় এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, যতদিন সরকারের চালের মজুদ ১০ থেকে ১২ লাখ টন না হবে, ততদিন পর্যন্ত অধিক মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতেই থাকবেন। কৃষকদের উৎপাদন খরচের সঙ্গে তাদের প্রত্যাশা অনুসারে লাভ দিয়ে চাল মজুদ করলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। দেশে উৎপাদন বাড়বে। সরকারের উচিত মুজদ ঠিক রাখার পাশাপাশি বাজার মনিটরিং বাড়ানো। সেইসঙ্গে যারা সরকারের দেয়া নানান সুবিধা ও ছাড় নিয়ে চাল আমদানি করে বাজারে অস্থিরতা করছে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।

সর্বশেষ খবর

অর্থ ও বাণিজ্য এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by