logo

বুধবার, ১৬ মে ২০১৮, ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ শাবান ১৪৩৯

সাবধান না হলে ব্যাংকে তারল্য সংকট বাড়বে
১৬ মে, ২০১৮
ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধির তুলনায় আমানত প্রবৃদ্ধি অনেক কম। এই ধারা চলতে থাকলে ব্যাংকের তারল্য সংকট আরো বাড়বে। এ জন্য এখন থেকেই ব্যাংক ব্যবসায় যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যাংক খাত বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের জুনে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.৭ শতাংশ এবং আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.৬ শতাংশ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.১ শতাংশ, যেখানে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৬ শতাংশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘ব্যাংকের ট্রেজারি কার্যক্রম’ শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান।

অনুষ্ঠানে রাজী হাসান বলেন, ‘ব্যাংকের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের তহবিল বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জনের মূল কাজটি করে ট্রেজারি বিভাগ। এখানে নানা ধরনের ঝুঁকি থাকে। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংককেই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে ডলারের দর একটু ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো বিষয়টি নজরদারি করছে, যাতে এটি আর না বাড়ে।’ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে বর্তমানে ঋণ-আমানত অনুপাত (এডি) ৮৪.৭ শতাংশ। ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হলে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে ৮৩.৫ শতাংশে আনা সম্ভব হবে না। প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ‘ট্রেজারি কর্মকর্তারা ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তাঁদের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষতার পরিচয় না দিলে পুরো ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় ভুল নীতির কারণে ২০০৭ সালে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংক। এ কারণে ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল করলে চলবে না।

প্রাইম ব্যাংকের সাবেক এমডি আহমেদ কামাল খান চৌধুরী বলেন, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবং শীর্ষ ব্যক্তিদের সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী। তিনি দক্ষতার সঙ্গে ট্রেজারি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সর্বশেষ খবর

অর্থ ও বাণিজ্য এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by