logo

বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৮, ২৬ আশ্বিন ১৪২৫, ৩০ মহররম ১৪৪০

রায় শুনে প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি প্রকাশ
১১ অক্টোবর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করলেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হওয়াতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলেছে। তবে শুধু ২১ শে আগস্ট নয়, এর আগেও বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় তাকে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১০ অক্টোবর) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিক সংগঠন অ্যাটকো’র পরিচালকবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের সময় ডিবিসি টেলিভিশনের সিইও মঞ্জুরুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বৈঠক চলাকালীন এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠকে বসেই রায় জানতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঞ্জুরুল ইসলাম রায়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন তিনি নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ থেকে বিরত থাকেন। সেদিনের সমাবেশের আগে মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনুমতি চাওয়ার পর তাকে বা দলের সাধারণ সম্পাদক কিংবা দায়িত্বশীল কাউকে অনুমতি দেওয়ার কথা জানানো হয়নি। কিন্তু রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল গেটের নিচে দিয়ে অনুমতির একটি চিঠি রেখে আসা হয়। যা পরদিন অফিস খোলার আগ পর্যন্ত কেউ জানতে পারেনি। কিন্তু ততোক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় এবং নেতাকর্মীরা আসতেও শুরু করেন। যে কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আর মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করা সম্ভব ছিল না। বিএনপি-জামায়াত সরকারের পক্ষ থেকে সুচতুরভাবেই এমনটা করা হয়েছিল যাতে আওয়ামী লীগ মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে না পারে।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ২১ আগস্ট নয়, এর আগেও তাকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে। যারা এসব কাজে জড়িত ছিলেন বিএনপি-জামায়াত সরকার তাদের প্রমোশনের পাশাপাশি বাড়তি সুযোগ-সুবিধাও দিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে তার জনসভায় গুলি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা ও হতাহতের কথা উল্লেখ করেন। সরকার প্রধান বলেন, ‘ওই ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা লুতিফুল মুন্সিকে বিএনপি-জামায়াত সরকার নানাভাবে পুরস্কৃত করেছিল।’

এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আগের দিন রাতে তারেক রহমান তাদের বাড়িতে ছিল না, ছিল ধানমণ্ডিতে তার শ্বশুর বাড়িতে। রাতে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলে তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এর পরই খালেদা জিয়া বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এসব প্রমাণ করে, ওই বিদ্রোহেও তাদের হাত ছিল।’

শেখ হাসিনা রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও এর পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।’

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বুধবারের দিনটিও অন্য স্বাভাবিক দিনের মতোই কাটিয়েছেন। তিনি ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়েছেন। দোয়া-মোনাজাত করেছেন। এর পর কয়েকটি ফাইল ওয়ার্ক সেরে পৌনে ১০টার দিকে অফিসে রওনা দেন। উল্লেখিত বৈঠকটি সেরে তার কার্যালয়েই তিনি দুপুরের খাবার সেরে নেন। এর পর অন্যান্য কাজ শেষে সাড়ে তিনটার দিকে তার বাসভবন গণভবনে ফিরে যান। গণভবনে পৌঁছে তিনি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় উঠে যান। এদিন তিনি আর নিচ তলায় নামেননি।

সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন

সর্বশেষ খবর

প্রথম পাতা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by