logo

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ রমজান ১৪৩৯

দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ
১৪ জুন, ২০১৮
স্পোর্টস ডেস্ক
গড়িয়ে চলা আর উড়ে যাওয়াই ফুটবলের স্বভাব। এর ইতিহাসটাও তেমনি। কখনো মনে হয় গড়িয়ে গড়িয়ে একই দেশে এর নানা বিবর্তন ঘটেছে, আবার কখনো দেখি এক দেশ থেকে উড়ে গিয়ে অন্য দেশে ঘাঁটি গেড়েছে কিছুটা রূপ পালটে।

ফুটবলের সূচনা হলো চীনে, কত দেশ ঘুরে একটা পরিপূর্ণ রূপ পেল ইংলন্ডে আবার এর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন আর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হলো ফ্রান্সে।

বিংশ শতাব্দীর শিশুকাল থেকে ফুটবলের একটা বিশ্ব সংস্থার স্বপ্ন দেখছিলেন ফ্রান্সের মঁসিয়ে জুলে রিমে। বিশ্বের ফুটবল রসিকরাও সম্মান দেখিয়ে দীর্ঘকাল আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি পদে তাঁকে বহাল রেখেছিলেন (১৯২০-৫৪)। ফরাসি ভাস্কর অ্যাবেল লা ফ্লুর পরিকল্পনায় নির্মিত হয়েছিল এই সোনার কাপ। এক ফুট উঁচু এই সোনার কাপের সোনায় কোনো খাঁদ ছিল না। এর দাম যে খুব আকাশ ছোঁয়া তা না। সেকালে খরচ পড়েছিল আড়াই হাজার পাউন্ড। কিন্তু বাজার দরে এর কোনো পরিমাপ করা যাবে না।

এখন কিন্তু আর সেই সোনার পরি বা জুলে রিমে কাপ নেই। লন্ডন থেকে একবার চুরি গিয়েছিল এ কাপ ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে। সে নিয়ে দারুণ হৈচৈ। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দারা হন্যে হয়ে খুঁজছেন। এ যে ইংলন্ডের মান-সম্মান যাবার মতো ব্যাপার। এক ভদ্রলোক ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন তাঁরই প্রিয় কুকুর পিকলসকে নিয়ে। সোনার পরি উদ্ধার করে সেই কুকুর এক পার্কের জঙ্গলপূর্ণ একটা জায়গা থেকে। আরো আগে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নািস জার্মানি আর ফ্যাসিস্ট মুসোলিনীর অনুচররা সোনার কাপটি ইটালি থেকে (১৯৩৮-এ ইটালি জেতে বিশ্বকাপ) চুরি করে সোনা গলিয়ে বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল। সেনানায়কদের এই চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়। ফলে ইটালির ফুটবল প্রেমিকরা ফুটবল আর দেশের সম্মান বাঁচাতে মাটির নিচে পুঁতে রাখে কাপটি।

আগে নিয়ম ছিল যে-দেশ তিনবার কাপ জিতবে—এমনকী পর পর তিনবার না হলেও, কাপটি চিরতরে তাদেরই হবে। ব্রাজিল তিন তিনবার (১৯৫৮, ৬২, ৭০) চূড়ান্ত পর্বের খেলায় জয়ী হয়েই কাপটি একবারে নিজেদের করে নিয়েছে। এরপর নিয়ম বদলানো হয়েছে। এখন কোনো দেশ পর পর তিনবার জিতলেও কাপ পাবে না। এ নিয়মটা চালু হয়েছে ১৯৭৪ থেকে। তাই ১৯৩৪, ৩৮, ১৯৮২—নিয়ে তিনবার জিতেও ইটালি কাপ পায়নি।

১৯৭৪-এর খেলার আগেই তৈরি করা হয়েছে নতুন কাপ। এর মডেল নির্মাণ করেছেন শিল্পী সিলভিয় গাজানিও। ছত্রিশ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের আঠারো ক্যারেট সোনায় মোড়া কাপটিকে ছেনি আর হাতুড়ির সাহায্যে চমত্কার রূপ দিয়েছেন মনিকার বার্তোনি।

কাপের নামও এখন বদলে গেছে। এখনকার নাম হলো ফিফাকাপ বা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ এখন সারা বিশ্বের হয়ে উঠেছে। সেটেলাইট টেলিভিশন ও ভিডিও যে বিপ্লব এনেছে তাতে সারা পৃথিবীর মানুষ এখন ঘরে বসেই বিশ্বকাপের খেলা দেখতে পারে। ১৯৫৮-তে বিশ্বকাপ খেলার প্রথম টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়। তবে তা ছিল খুব সীমিত।

বিশ্বকাপের খেলা শুরু করার ব্যাপারটা কিন্তু তেমন সহজ হয়নি। ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দের ২১ মে প্যারিসে বৈঠক বসে ছ’টি দেশের প্রতিনিধিদের। দেশগুলো হলো: ফ্যান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, স্পেন, সুইটজারল্যান্ড আর হল্যান্ড। এদের আলোচনার ভিত্তিতেই গঠিত হয় ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা ফিফা। ‘ফিফা’ বিশ্বকাপের ধারণাটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে ১৯২০ সালে। তবে এ খেলা শুরু করতে লেগে যায় আরো দশটি বছর। বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার পরিচালনা ও নিয়ম-কানুন তৈরির সব দায়িত্ব এখন ফিফার। শুধু বিশ্বকাপ না, ফুটবলের সকল প্রতিযোগিতাই এখন ফিফা-আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

সর্বশেষ খবর

খেলায় খেলায় এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by