logo

সোমবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০২ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯

শিরোনাম

খুলনায় ‘অনিচ্ছুক’ প্রার্থীরা শক্ত লড়াইয়ে
১৬ এপ্রিল, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
শাসক দল আওয়ামী লীগের হয়ে খুলনায় লড়বেন তালুকদার আবদুল খালেক। দলের মনোনয়ন পাওয়ার আগে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। জানিয়ে ছিলেন নির্বাচনে লড়তে অনিচ্ছার কথাও। বলেছিলেন, ‘এখন আমি এমপি। সিটিতে দলের নতুন নেতৃত্ব আসুক।

গত সোমবার রাতে দলের বর্ধিত সভায় খালেককে মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। দলের একাধিক সূত্র জানায়, এ মুহূর্তে খালেকের কোনো বিকল্প ছিল না। দল তাঁকে শক্ত প্রার্থী বলে মনে করে। গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘দলের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে খুলনা আওয়ামী লীগের সবাই আমার পক্ষে কাজ করতে চেয়েছেন। সবার ইচ্ছেতেই দাঁড়াতে হলো।’

মনোনয়ন পাওয়ার আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গেও প্রথম আলোর কথা হয়। আলোচনার বিষয় ছিল, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন। দলটির মনোনয়ন তখনো ঠিক হয়নি। দলের নির্বাচনসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে সন্ধ্যায়। কে পাচ্ছেন দলের টিকিট?

সরাসরি উত্তর না দিয়ে মঞ্জু জানান, দলীয় মহাসচিব তাঁকে আসতে বলেছেন। এতে স্পষ্ট না হওয়ায় আবার মনোনয়ন প্রশ্নে জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন, ‘এটি এ বছরের প্রথম নির্বাচন। দল কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। চায় শক্ত প্রার্থী দিতে।’

খুলনা সিটির নির্বাচনে বিএনপির বিবেচনায় এই ‘শক্ত প্রার্থী’ নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গত সোমবার তাঁকে দল মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি এর আগে বলেছেন, দলের নির্বাচিত মেয়র আছেন। সিটিতে তিনি যেতে চান না। তবে দলের নির্দেশ তিনি মেনে নেবেন। শেষতক নিলেনও তা-ই।

তালুকদার খালেক এখন সংসদ সদস্য, তাঁর আসন মোংলা-রামপাল। মঞ্জু সাবেক সংসদ সদস্য, খুলনা-২ আসনের। দুজনই সংসদ সদস্য হওয়াটাকেই বেশি গ্রাহ্য বলে মনে করেছিলেন? খুলনা সিটির আগের নির্বাচনগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চরিত্রই কি মেয়র পদে নির্বাচনে তাদের অনীহার কারণ?

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) খুলনা ইউনিটের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির মনে করেন, দুই দল তাদের সবচেয়ে পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখানে দুই দলেই সব সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেন না, তিনি বিজয়ী হবেন। অধ্যাপক কাদির বলেন, এ সিটির আগের ইতিহাসও কিন্তু বলছে, এ জায়গা কারও জন্য নিরাপদ নয়।

জাতীয় সংসদের খুলনা-২ ও খুলনা-৩ নিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন। বিগত চার সংসদ নির্বাচনে (১৯৯১ থেকে ২০০৮) খুলনা-৩-এ দুবার বিএনপি এবং দুবার আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়েছে। খুলনা-২-এ চার নির্বাচনে একবারও আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হতে পারেনি। তবে এ আসনে তারা ভোটের ব্যবধান কমিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ১ হাজার ৫৭০ ভোটের ব্যবধানে নজরুল ইসলাম মঞ্জু হারান আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজানকে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক বিএনপির মনিরুজ্জামানকে হারান ২৬ হাজারের বেশি ভোটে। আবার ২০১৩ সালের নির্বাচনে মনিরুজ্জামান ৬১ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান খালেককে।

সর্বশেষ খবর

শিরোনাম এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by