logo

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ রমজান ১৪৩৯

শিরোনাম

আওয়ামী লীগ সরাসরি আর কৌশলে জনসংযোগে ব্যস্ত বিএনপি
১৪ জুন, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন বেশ আগেই। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃবৃন্দের এ নির্বাচন নিয়ে নানামুখী কথাবার্তায় সিলেট অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সংশয়-সন্দেহের বেড়াজালে পড়েছেন। তাদেরও প্রশ্ন বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি-না। আবার কেউ কেউ জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রচেষ্টা হচ্ছে সেটিরও খবর রাখছেন।

এর মধ্যে ৩০ জুলাই রাজশাহী ও বরিশালের সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষণায় জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেশ উজ্জীবিত করেছে। প্রধান দুটি দলের একাধিক প্রার্থী সিলেট জেলার ছয়টিসহ এ বিভাগের ১৯টি আসনের পদ প্রার্থীরা নানা কর্মসূচি পালনের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ মহলে লবিং-এ ব্যস্ত। সিলেটের অন্য সব কয়েকটি আসনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য ছোট দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া গেলেও ‘মর্যাদার আসন-১’ আসনে সরকারি দলের প্রার্থী নিয়ে বেশ ধূম্রজালে আছেন এখানকার অধিবাসীরা। তবে প্রধান দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে বেশ তত্পর।

এ রমজানে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে জনসংযোগ চলছে। বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে কৌশলী কায়দায় জনসংযোগ করছেন। আর আওয়ামী লীগ সরাসরি মাঠে নেমেছে। গত শনিবার সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে সেখানে একটি ইফতার মাহফিলে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ নৌকা প্রতীকে ভোট চান। কয়েকদিন আগে সিলেট-৬ আসনে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলে আসনটির সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নাহিদ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার আহ্বান জানান।

সব দলের শীর্ষ নেতারা মনে করেন সিলেট-১ আসনটি মর্যাদাপূর্ণ। আসনটির পরিচিতি সারা দেশের নিকট একটু ভিন্নমাত্রায়। হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) এর মাজারসহ অসংখ্য পীর-আওলিয়াদের মাজারের কারণে আসনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্বাধীনতার পর থেকে। তাই যে কোন নির্বাচনের আগে দলীয় প্রধানরা মাজার জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য হয়ে পড়েছে সিলেট-১ আসনে জয়লাভ করা। এ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর দল সরকার গঠন করে এমন ‘মিথ’ চালু আছে।

কয়েক মাস আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল বল নিয়ে সিলেটে মাজার জিয়ারত করে আলিয়া মাদ্রাসার বিশাল জনসভায় ‘নৌকার’ পক্ষে ভোট চেয়ে গেছেন। তার কয়েকদিন পরেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও মাজার জিয়ারত করেছেন। তবে তিনি কোন সভা করেননি। এরপর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদও নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে মাজার জিয়ারত করেছেন।

এদিকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগে বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বয়সের কারণে নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তার ঘোষণার পর এ আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম উঠে আসে। অবশ্য সিলেটের অনেকেই মনে করছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত এবার প্রার্থী না হলে তার ভাই ছোট ভাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আবদুল মোমেন প্রার্থী হতে পারেন। এ আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

অন্যদিকে দলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন বা দলীয় কোন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মাঠে ময়দানে দেখাও যায় না এমন প্রভাবশালী বেশ কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন— সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

নবম ও দশম জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী ছিল না। জোটগতভাবে নির্বাচন করায় দলটি এ আসনে প্রার্থী দেয়নি। এর আগে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন বাবরুল হোসেন বাবুল। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোট হলে এ আসনে কে প্রার্থী হবেন বলা যাচ্ছে না। তবে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা মর্যাদার এ আসনে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়।

সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তার মৃত্যুর পর এ আসনে যোগ্য প্রার্থী সংকটে ভোগে। তখন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী মাঠে নেমে গণসংযোগও শুরু করেন। কিছুদিন পর দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও তার অনুসারীদের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয়ে যায়। এরই মধ্যে ইলিয়াস আলী ‘নিখোঁজ’ হন। আর শমসের মবিন চৌধুরীও বিএনপির রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেন। এই অবস্থায় আপতত সিলেট-১ আসনে বিএনপির সে রকম প্রার্থীর অনেকটা সংকট দৃশ্যমান। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে দলে ও বাইরে। দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং সিলেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে তিনি। ’৯১ সালের নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে শুধু সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেন তিনি। তবে এ আসনে দলের চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া কিংবা তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে প্রার্থী করার কথা শোনা গিয়েছিল। ডা. জোবাইদা রহমান সিলেটের কৃতী সন্তান রিয়ার এডমিরাল মরহুম এম খানের মেয়ে। তবে বেগম জিয়া জেলে ও নানা মামলা মোকদ্দামা জড়িত জিয়া পরিবার। তাই শেষ পর্যন্ত কি হবে এক্ষুণি বলা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ খবর

শেষ পাতা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by