logo

বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প নিয়ে আড়াই বছরে দুদকে কোনো অভিযোগ আসেনি
১২ জুলাই, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
‘সরকারি খাতের দুর্নীতিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ’- বিশ্বব্যাংকের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বুধবার তিনি বলেন, গত আড়াই বছরে আমরা সরকারি খাতের দুর্নীতির দিকে নজর দিয়েছি।

অনেকগুলো ফাঁদ মামলা করেছি। এসব মামলায় আসামি হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমার জানামতে বাংলাদেশে অবকাঠামোসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্প নিয়ে কমিশন বিগত আড়াই বছরে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ পায়নি।

এমনকি বিশ্বব্যাংক তাদের অর্থায়নে পরিচালিত কোনো প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে এ ধরনের কোনো অভিযোগও কমিশনে করেনি। তাহলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ল, এ বাস্তবতার ভিত্তি কী? দুর্নীতি দমন, প্রতিরোধ এবং পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে কমিশন বিগত আড়াই বছরে ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। সরকারও প্রতিটি ক্ষেত্রে কমিশনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ‘কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইন্সটিটিউশনাল অ্যাসেসমেন্ট’-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে বাংলাদেশ সামাজিক খাতে এগিয়ে থাকলেও সরকারি খাতের দুর্নীতিতে পিছিয়ে পড়ছে। দুর্নীতি দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি খাতের দুর্র্নীতিতে পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এ জাতীয় প্রতিবেদনের বিষয়ে আমি সাধারণত কোনো মন্তব্য করি না।

তবে পত্র-পত্রিকায় আমিও এ প্রতিবেদনটি দেখেছি। আমি কিছুটা দ্বিধায় পড়েছি কারণ যারা শুধু দুর্নীতি নিয়ে কাজ করে সেই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০১৭ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮ স্কোর পেয়েছে। অর্থাৎ ২০০১ সাল থেকে টিআইয়ের ধারণা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ স্কোর ২৮ অর্জন করেছে। একই বছর বিশ্বব্যাংক এবং টিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের জরিপের এ বৈপরীত্য অবাক করার মতোই।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন বিগত আড়াই বছরে কমিশন নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ৬১৬ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ২৭৮ জন। গ্রেফতারকৃতদের প্রায় ৪৫ ভাগই সরকারি কর্মকর্তা। এ দেশের ইতিহাসে এ অভিযান একটি অভাবনীয় ঘটনা যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এমনকি মঙ্গলবারও দু’জন সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন।

একই সময়ে ৭ শতাধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশ আসামিই সরকারি কর্মকর্তা। একইভাবে ১০২৪টি মামলার চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। কমিশনের মামলায় সাজার হার বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে কমিশন ৫২টি ফাঁদ মামলা পরিচালনা করে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতিপরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করেছে।

ঘুষ গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে দুর্নীতি নির্মূলে কমিশন রেন্ট-সিকিং সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ঘুষ গ্রহণের প্রবণতাও কমে আসছে। সাধারণ তত্ত্ব হচ্ছে- প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা যত কঠোর হবে অপরাধ তত কমে আসবে।

ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে হাওরাঞ্চলের বাঁধ নির্মাণে এবার দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নতুন করে আসেনি। বিআরটিএ, পাসপোর্ট অধিদফতর, নৌপরিবহন অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে কমিশনের ফাঁদসহ প্রতিরোধমূলক অভিযানে দুর্নীতির প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি নির্মূলে কমিশন প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বিলিং সিস্টেম, টেলিফোন, ওয়াসার বিলিং সিস্টেম অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজড হওয়ায় বিলিং সিস্টেমের হয়রানি/দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে।

দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬-এর মাধ্যমে দুর্নীতি অথবা জনহয়রানির গুরুতর অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। ফলে এ ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই। তাহলে বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদনের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকেই যায়।

সূত্র: যুগান্তর

সর্বশেষ খবর

শেষ পাতা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by