logo

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২৭ আশ্বিন ১৪২৫, ০১ সফর ১৪৪০

পানির সরবরাহে সফল, বিশুদ্ধতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
১২ অক্টোবর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ‘ওয়াটার সাপ্লাই, স্যানিটেশন, হাইজিন’ (ওয়াশ) শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি সরবরাহ নিশ্চিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও ৪১ শতাংশ উৎসের পানিই ই-কলাই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত, যা প্রমাণ করে পানিতে উচ্চ মাত্রায় মলমূত্রের দূষণ ঘটছে। পনির বিশুদ্ধতার এই সংকটে ধনী-গরিব সবাই ভুক্তভোগী এবং দেশজুড়েই সমস্যাটি বিদ্যমান।

প্রতিবেদনের ভাষ্য, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত পানি সরবরাহ উৎসের আওতায় রয়েছে। কিন্তু পানির মান খারাপ। সরবরাহ করা পানির দূষণের অন্যতম একটি দিক হচ্ছে ই-কলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো সরবরাহ উৎস থেকে আসা পানিতেই এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ‘পাইপের ও পুকুরের উভয় উৎসের পানির ক্ষেত্রেই সংগৃহীত নমুনার ৮০ শতাংশে ই-কলাইয়ের উপস্থিতি দেখা গেছে।’

এই প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই বিশ্বব্যাংকের মানব উন্নয়ন সূচকের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের উপরে। কিন্তু প্রতিবেদনের ভাষ্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট বাংলাদেশের পুরো অর্থনৈতিক অগ্রগতিকেই ব্যাহত করতে পারে। সুষম উন্নয়নের জন্য মানব সম্পদ উন্নয়ন ও শ্রমের সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে যেতে দূষিত পানির কারণে।

বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির সংকটের একটি বড় কারণ পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে হওয়া দূষণ। বাংলাদেশে নদী বা পুকুরের মতো পানির উৎসগুলো বসতবাড়ি থেকে খুব একটা দূরে নয়। কিন্তু এসবের পানি ব্যবহারের জন্য পরিশোধনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করাটা খুবই কঠিন। কৃষি, শিল্প ও নগর কর্তৃপক্ষের ফেলা বর্জ্যের কারণে এসব উৎসের পানি দূষিত হয়।

প্রতিবেদনে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগের রীতি নির্মূল করার বিষয়ে বাংলাদেশের সফলতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এখনও প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা শৌচাগার ব্যবহার করে। এসব শৌচাগারে নেই সাবান ও পানি। নগরাঞ্চলের বস্তিগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ পয়োঃনিষ্কাশনের সংকট রয়েছে। আর এ সংকট বড় বড় বস্তিগুলোতে পাঁচ গুণ প্রকট। সেখানকার শিশুদের পুষ্টিহীনতার হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের জন্য নির্ধারিত কান্ট্রি ডিরেক্টর সারিন জুমা বলেছেন, ‘বিশুদ্ধ পানির অভাব একটি জাতির ভবিষ্যৎ উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ নিরাপদ পানির সঙ্গে শিশু-স্বাস্থ্য জড়িত। ’

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এবং প্রতিবেদনের রচয়িতাদের একজন জর্জ জোসেফ বলেছেন, ‘বসতবাড়ি ছাড়াও অন্যান্য জনসমাগমের স্থানে স্থায়ী শৌচাগার সুবিধা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ বাংলাদেশের আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র, অফিস-আদালতে নিরাপদ পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করতে পারে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে মাত্র অর্ধেকের মতো কারখানায় শৌচাগার আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোরও মাত্র অর্ধেকের ক্ষেত্রে নারীদের আলাদা শৌচাগার দেখা গেছে। ফলে প্রতি চার জন নারী শিক্ষার্থীর একজন ঋতুস্রাবের সময় স্কুলে যায় না। নিরাপদ পানি ও পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও অনেক বেশি নারীর কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন

সর্বশেষ খবর

শেষ পাতা এর আরো খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by