logo

বুধবার ০৩, আগস্ট ২০১৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৩, ২৮, শাওয়াল ১৪৩৭

‘অস্ত্রধারীরা’ গ্রেপ্তার না হলে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক চট্টগ্রাম কলেজে
০৩ আগস্ট, ২০১৬
পত্রিকা ডেস্ক:
তিনদিন আগে চট্টগ্রাম কলেজে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের শনিবারের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে পরদিন (৭ অ‍াগস্ট) থেকে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ।

বুধবার সকালে স্থানীয় যুবলীগের সংগঠক নুরুল মোস্তফা টিনুর অনুসারীদের করা এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম কলেজের ‘ছাত্র প্রতিনিধি’ সুভাষ মল্লিক।

কর্মসূচির মধ্যে আছে- ৩১ জুলাইয়ের ঘটনায় গুলিবর্ষণকারী অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ৪ অগাস্ট পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ৬ অাগস্ট কলেজে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং ৭ অগাস্ট থেকে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট।

গত রোববার সকালে স্থানীয় যুবলীগ সংগঠক নুরুল মোস্তফা টিনু ও নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। টিনুর অনুসারীরা কলেজে ঢুকে জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাঁধে।সে সময় কমপক্ষে সাতজন আহত হয়, যাদের মধ্যে কমপক্ষে তিনজন ছিল গুলিবিদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে সুভাষ মল্লিক বলেন, ওই ঘটনায় আহত ইমামউদ্দিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত দুই দিন মিছিল করে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম।

“পুলিশ প্রশাসন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে।”

সুভাষ বলেন, ঘটনার দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে স্পষ্ট ছবি আছে কারা গুলি করেছে। কিন্তু পুলিশ এক্ষেত্রে নির্বিকার। যারা গুলি করেছে তারা কার নির্দেশে গুলি করেছে সেটাও খুঁজে বের করতে হবে।

সংঘর্ষের জন্য নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে দায়ী করেন সুভাষ। বলেন, “নুরুল আজিম রনির সাথে যারা চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের নাম বহন করছে তারা অধিকাংশই অনুপ্রবেশকারী।”

৩১ জুলাই সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলার চার নম্বর আসামি শরিফুল ইসলাম মাহির বাড়ি সাতকানিয়ায় এবং তার পরিবার জামায়াতে ইসলামের আদর্শে বিশ্বাসী বলে অভিযোগ সুভাষের।

তিনি বলেন, মামলার আরেক আসামি অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাবেদুল ইসলাম জিতু পটিয়ায় বহু মামলার আাসামি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মোক্তার হোসেন রাজু ও খালেদ মাহবুব চৌধুরী টুটুল।

গতবছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম ও মহসিন কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত রনির অনুসারীরা ওই সময় থেকে ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পরে কয়েকবার নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের সাথে এবং সর্বশেষ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা টিনুর কর্মীদের সঙ্গে রনির অনুসারীদের কয়েকবার সংঘর্ষ বাঁধে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by