logo

বৃহস্পতিবার ২০ এপ্রিল ২০১৭,০৭ বৈশাখ ১৪২৪,২২ রজব ১৪৩৮

শিরোনাম

যতদিন বাঁচব, সংগ্রাম চালিয়ে যাব : ড. কামাল
২০ এপ্রিল, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদদের মাটি কোনোদিন অন্যায়-অত্যাচার মেনে নেবে না। তোমরা যারা দুর্নীতি করছ, শুনে রাখ, বাংলাদেশের মাটি এটা সহ্য করবে না। তোমাদের পুর্ব পুরুষদের কী হয়েছে? রাঘব বোয়াল যারা দুর্নীতি করেছে, তারা কি ভালো আছে? তাদের কি পরিণতি হয়েছে? অবশ্যই আমরা এ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারব। সন্ত্রাসমুক্ত করতে পারব। আজ সকালে বেইলি রোডের নিজ বাসভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেন।

আজই ৮১তে পা রাখলেন ড. কামাল। এ উপলক্ষে তার দল গণফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ওই অনুষ্ঠানের। সকাল ৯টায় নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় তার ৮০তম জন্মদিন পালন করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী এবং তার স্ত্রী ড. হামিদা হোসেন। সভায় নেতৃবৃন্দর মধ্যে উপস্থিত গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য নেতা মফিজুল ইসলাম খান কামাল, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ আ ও ম শফিক উল্লাহ, মোশতাক আহমেদ, ফজলুল কবির কাওসার প্রমুখ।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, শহীদরা লুটপাটকারীদের রক্ষার জন্য শহীদ হননি। পাচারকারীদের বাঁচাতে রক্ত দেননি। জনগণকে এটা বোঝাতে হবে, দেশের গুণগত পরিবর্তনের জন্য শহীদ জীবন দিয়েছেন। নিজের আয় দিয়ে এ দেশের মানুষ সুখেই থাকবে। হাসপাতালে ভালো চিকিৎসাও পাবে তারা। সভ্য রাষ্ট্র করতে যা লাগবে তার ঘাটতি হবে না।

সবাইকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, নিরাশ হবার কোনো কারণ নেই। দেশে ঘুষ-দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যাবে না। অত্যাচার-নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ আমরা অবশ্যই গড়ব। তিনি উপস্থিত তরুণ নেতাদের বলেন, আমরা যতদিন বাঁচব, আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করেন তিনি। বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন, একজন সফল উকিল-ব্যারিস্টার হয়ে টাকা কামাই করতে পারবে। মানুষের মন পাবে না। রাজনীতি হলো মানুষের সেবা করা। ঝুঁকি নিয়ে তাদের জন্য লড়াই করা।

সত্যিকারের রাজনীতিতে এলে মানুষের যে ভালোবাসা পাওয়া যায় তার তুলনা অন্য কিছুতে নেই। মানুষের সত্যিকারের ভালোবাসা পেতে হলে রাজনীতিতে আসতে হবে। সত্যিই আমি আজ দেখছি বঙ্গবন্ধুর কথাই ঠিক। এটা একশত ভাগ সত্যি। আজ যে ভালোবাসা পাচ্ছি, তা এক হাজার কোটি টাকা দিয়েও কেনা যায় না। রাজনীতি না করলে জনগণের জন্য সত্যিকার অর্থে কিছু করা যায় না। তিনি বলেন, হাজার হাজার টাকা কামাই করতে পারে, বিরাট বিরাট দালান-কোঠা করতে পারে, কিন্তু তাদের নাম মানুষ মনেও রাখবে না।

দেশের উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের ব্যাপক উন্নয়নের পেছনে গার্মেন্টের শ্রমিক, মেয়েরা কাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা করছে, রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে। আর জনগণের এই টাকা কতিপয় লোক দেশের বাইরে পাচার করছে। কারা এই পাচারকারী? যারা পাচার করছে তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষকে এখনও কষ্ট করতে হচ্ছে।

এটাই রোগ, শাসনব্যবস্থার রোগ। এ রোগ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। বাঙালি জাতির একটা বৈশিষ্ট্য আছে। তারা অন্যায়কে মেনে নেয়নি। লোভের শিকার হয়ে অন্যায়কে আমরা সমর্থন করি না। বঙ্গবন্ধুও বলেছিলেন, গরু ছাগলের মাথা বিক্রি হয়, মানুষের মাথা বিক্রি হয় না। স্বাধীনতার ফল ভোগ করতে হলে সবাইকে মানুষ হতে হবে। যারা মনে করেন, স্বাধীনতার অর্থ চুরি করা, অসৎভাবে টাকা অর্জন করা, তারা ভুল ভাবেন, বলেন ড. কামাল।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by