logo

শনিবার ১৫ জুলাই ২০১৭,৩১ আষাঢ় ১৪২৪, ২০ শাওয়াল ১৪৩৮

শিরোনাম

ঢাকা ছাড়লেন লংকান প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা
১৫ জুলাই, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। আজ শনিবার দুপুরে কলম্বোর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন লংকান প্রেসিডেন্ট।
শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন। ঢাকায় পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। তার সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ব্যস্ত সময় কাটান সিরিসেনা। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে টাইগার গেটে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমেই দুই নেতা একান্তে কিছু সময় কথা বলেন। তারপর অনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সই হয় চুক্তি ও এমওইউ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তা প্রত্যক্ষ করেন।
দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানিয়েছেন, শ্রীলংকার সঙ্গে এফটিএ হলে এটাই হবে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি। শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা চলতি বছরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ জন্য যে আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার, তা দ্রুত শেষ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চুক্তি ও এমওইউ : প্রতিবেশী এই দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৪টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সিরিসেনা শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে টাইগার গেটে তাকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টকে। দুই নেতা প্রথমে একান্ত বৈঠকে অংশ নেন। তারপর দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলি হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। শেষে করবীতে দুই নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়। এর মধ্যে দুই দেশের কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসাবিহীন চলাচলের বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবী করুণানায়েকে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ও কৃষি খাতে সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষা, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে, পররাষ্ট্র সেবাবিষয়ক ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বিস’ ও শ্রীলংকার এলকেআইআইআরএসএসের মধ্যে এবং রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র, দু’দেশের মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান, সংবাদ সংস্থা এবং চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন ইন্সটিটিউট ও শ্রীলংকা টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ইন্সটিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বাকি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়। দু’পক্ষই আশা করছে, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের এ সফর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। সেখানে তার সম্মানে দেয়া এক ভোজেও অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম পৃথকভাবে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এই সফরে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা থাকছেন ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে। তার সফর উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশে এটা তার প্রথম সফর হলেও এর আগে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় ঘুরে গেছেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। বৃহস্পতিবার ঢাকা পৌঁছানোর পর বিকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট। পরে তিনি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জাদুঘরে তাকে স্বাগত জানান বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এ সফরে ৭৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by