logo

শুক্রবার ১১ আগস্ট ২০১৭, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৪, ১৭ জিলকদ ১৪৩৮

শিরোনাম

বিচার বিভাগকে প্রতিপক্ষ না করার আহ্বান রবের
১১ আগস্ট, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে বিচার বিভাগকে প্রতিপক্ষ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

আজ শুক্রবার বিকেলে জেএসডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় যুব পরিষদের উদ্যোগে ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুবসমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় রব এ কথা বলেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান সম্পর্কে জেএসডি নেতা বলেন, ‘এটার পরিণতি কী হবে জানেন না। বিচারকদের ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছে। আপনারা ভয় দেখাচ্ছেন বিচার বিভাগকে, থ্রেট করতেছেন। গায়ের জোরে করে, সন্ত্রাসী দিয়ে, গুণ্ডামি করে জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিভিন্ন দলের জনসভা বানচাল করা যায়। কিন্তু বিচার বিভাগের ওপর দিয়ে এসব সন্ত্রাসী-গুণ্ডামি করে টেকা যায় না। এর পরিণতি ভয়াবহ।’

একই অনুষ্ঠানে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

মান্না আরো বলেন, ‘সবচাইতে বড় আমাদের আশা-ভরসার স্থল সুপ্রিম কোর্ট। আপিল বিভাগকে ওরা সরাসরি ধমক দিয়েছে এই ব্যাটা যা, অক্টোবরের মধ্যে তোকে যেতে হবে। না হলে? তোমাকে বিদায় করবার ব্যবস্থা করব। এখন সেই যুবক চাই, সেই যুবসমাজ চাই যারা বলবে উনি যাবেন না, যাবি তোরা। যদি জনগণের সপক্ষে কাজ না কর, মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না কর, মানে মানে ভদ্রলোকের মতো গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না দাও।’

বক্তারা বলেন, প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে যেসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন তা এ দেশের সব মানুষের মনের কথা। এর মাধ্যমে তিনি বঙ্গবন্ধুকে ছোট করেননি।

গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ৩ জুলাই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এ মামলায় নয়জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তাঁরা হলেন ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, বিচারপতি টি এইচ খান, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল ও এজে মোহাম্মদ আলী।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ১১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র। রায়ে আরো বলা হয়, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ৬৩ শতাংশের অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল বা ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান রয়েছে।

আদালত রায়ে আরো বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে দলের বিরুদ্ধে সাংসদরা ভোট দিতে পারেন না। তাঁরা দলের হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ফলে সাংসদদের সব সময় দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তাঁরা দলের বাইরে যেতে পারেন না। যদিও বিভিন্ন উন্নত দেশে সাংসদদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আছে।

রায়ে বলা হয়, মানুষের ধারণা হলো, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by