logo

রবিবার ১৩ আগস্ট ২০১৭, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৩৮

শিরোনাম

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আর নয় ৫৭ ধারার মামলা: আইনমন্ত্রী
১৩ আগস্ট, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন আইন করা হবে না। ইচ্ছা করলেই কেউ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করতে পারবে না।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে দ্য রিপোর্টার্স আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ৫৭ ধারা মূলত সাইবার ক্রাইম প্রতিহত করার জন্য। তার মানে এই নয় যে সাংবাদিকরা সাইবার ক্রাইম করে। যারা বড় ধরনের ক্রাইম করে তাদের বিরুদ্ধেই ৫৭ ধারায় মামলা করা হবে।

আনিসুল হক বলেন, আর যদি কোনো সাংবাদিকের নামে কেউ থানায় গিয়ে ৫৭ ধারায় মামলা করতে চায় সে ক্ষেত্রে তাকে আমাদের আনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া এই মামলা করা যাবে না।

সরকার বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মন্তব্য করে আলোচনার সকল পথ উন্মুক্ত আছে বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারবিভাগ, সংসদ এবং নির্বাহীবিভাগ রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গ। সেক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলতে পারে।’

“দেশের স্বার্থে,জনগণের স্বার্থে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হয়। আমরাতো বিচার বিভাগের সঙ্গে ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় নামি নাই। পথ চলতে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। সেটা দেশের স্বার্থে নিরসন করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এজন্য আলাপ-আলোচনার দ্বার সবসময় খোলা থাকবে।”

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাশ করা হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়।

তবে সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

এরপর হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। গত ৮ মে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের উপর শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে আপিল বিভাগে মতামত উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০জন বিজ্ঞ আইনজীবী।

গত ৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন। আপিল খারিজের ওই রায়ের ফলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ই বহাল থাকে।

১ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় । সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায় প্রকাশ করা হয়।

চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের যে সংশোধন আনা হয় তা সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে রায়ে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে, গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব আবু সালেহ মো. জহিরুল হক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী প্রমুখ।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by