logo

বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টম্বর ২০১৭, ০৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২৯ জিলহজ ১৪৩৮

শিরোনাম

রোহিঙ্গা সংকট কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘আগেও রোহিঙ্গা এসেছে, আপনারা তো কিছুই করেন নাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়েও বলছে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য। শেখ হাসিনা চায়, কূটনৈতিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে। আর আপনারা (বিএনপি) বলেন, হেন করেঙ্গা, তেন করেঙ্গা, ধুনা সাপের বিষ মারেঙ্গা।’

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উল্লিখিত মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার ‘অপরাজেয় বাংলা’ নামে একটি সংগঠনের আয়োজনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ভবনের স্বাধীনতা হলে ‘দেশ ও বিদেশি কুচক্রী মহলের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ পন্থায় সরকার পতনের অপচেষ্টায় লিপ্ত সকল গণশক্রর অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ' শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মতিয়া। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে কিছুদিন আগে পাহাড়ি ঢলে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। এর পর দেশে এলো বন্যা। এর পর পরই চলে এলো রোহিঙ্গা সংকট। এ সংকট যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চাল আমদানি করতে হচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য বলেন, ‘আমরা যেখানে বিদেশে চাল রপ্তানি করতাম, সেখানে আমাদের বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু মিডিয়ায় হঠাৎ করে নিউজ এলো, ভারত আমাদের চাল দেবে না। পরে সেটা যে মিথ্যা, তা প্রমাণ হয়েছে। আমাদের এবার আউশের ফলন আগের বছরের চেয়ে পাঁচ লাখ টন বেশি উৎপাদন হয়েছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘৯২ দিন চাঙ্গে উইঠা বসে ছিলেন। ভেবেছিলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়ে সিংহাসনে বসে যাবেন। কিন্তু কী হলো? এখন আপনি বিদেশে গিয়ে বসে আছেন। বলছিলেন, ১৫ তারিখে দেশে আসবেন। এখন শুনছি, দেশে আসবেন না। আবার বলেন, ডাক্তারের সিরিয়াল পেয়েছেন, ডাক্তার দেখিয়ে দেশে আসবেন। এসব ভাঁওতাবাজি বাংলাদেশের মানুষ বোঝে। আপনি বিদেশে বসে ভেবেছিলেন, উমুকটা ঘটিয়া যাইবে, কিন্তু ঘটে নাই।’

বিএনপিকে জ্বালাও-পোড়াওয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা (বিএনপি) নির্বাচনে আসেন নাই। আপনারা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, শেখ হাসিনার কোনো জনপ্রিয়তা কমে যায় নাই। তখন আপনারা বেছে নিলেন ৯২ দিনের দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। এই ৯২ দিনে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন।’

‘এই সময় যখন আপনার (খালেদা জিয়া) ছেলে কোকো মারা যায়, তখন আপনার আরেক ছেলে তারেক তো কোকোর জানাজায় আসে নাই। আপনি (খালেদা জিয়া) তিন দিনের দিন যে কুলখানির দিনে কবরে গিয়ে দোয়া করতে হয়, তাও করেন নাই। আপনি বসে ছিলেন শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়ে সিংহাসনে বসতে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্য খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছেন। আমরা আশা করি, যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারব।’

সংগঠনের সভাপতি এইচ রহমান মিলুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক কামাল চৌধুরী, চারুকলা একাডেমির পরিচালক মনিরুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেক রহমান প্রমুখ।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by