logo

রবিবার ১৫ অক্টোবর ২০১৭, ৩০ আশ্বিন ১৪২৪, ২৪ মহররম ১৪৩৮

শিরোনাম

সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় বিএনপি
১৫ অক্টোবর, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে বিএনপি ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় তাঁর দল।

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এমন অবস্থানের কথা জানান ফখরুল।

বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সভাপতিত্বে সংলাপ শুরু হয়। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের ১৬ সদস্য যোগ দেন। সংলাপের শুরুতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বিএনপি নেতাদের কুশলাদি জানেন এবং বিগত বিএনপি সরকার ও জিয়াউর রহামনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন। এসময় সিইসি মন্তব্য করেন, বিএনপির নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের জানান, তার দল নির্বাচন কমিশনকে ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, ইসির পক্ষ থেকে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, আলোচনার শেষ দিকে এসে তারা বিএনপির প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, তারা চেষ্টা করবেন। নিজেদের মধ্যে বসবেন, বসে দেখবেন, তারা কি করতে পারেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বলেছি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ সমানভাবে দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন থেকে কি আশা নিয়ে ফিরছেন বা কি উপলব্ধি হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দুই ঘন্টা ৩৫ মিনিট আলাপ করেছি। শেষের দিকে তারা বলেছেন, অনেকখানি সীমাবদ্ধ আছেন। তবে এ কথাও তারা স্বীকার করেছেন, যে দেশে বর্তমানে সেই অবস্থা নেই, যে অবস্থায় তারা তাদের দায়িত্ব পুরো পালন করতে পারেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা বলেছেন, ‘‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় গণতন্ত্রের যে আসল রূপ, সেই রূপ বাংলাদেশে নেই।’’

সহায়ক সরকারের বিষয়ে ইসির মনোভাব কেমন ছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা বলেছেন, তাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তারা চেষ্টা করবেন। নিজেদের মধ্যে বসবেন, বসে দেখবেন, তারা কি করতে পারেন।

ইতোমধ্যে ইসি বলেছে, তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘না, আজকে তারা এ কথা বলেননি। তারা বলেছেন, যে, তারা নিজেরা বসবেন, বসে আলাপ করে দেখবেন, তাদের কী কী সুযোগ আছে।’

এই সংলাপ করে আপনারা সন্তুষ্ট কী না প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের যে প্রচণ্ড রকম অগণতান্ত্রিক আচরণ, সেইখানে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার তো কোনও কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে কিছুটা তো বটেই, আশাবাদী।’

সংলাপে বিএনপির প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এম তরিকুল ইসলাম, লে. জেনারেল(অব) মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিঞা, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এ এস এম আবদুল হালিম, ইসমাঈল জবি উল্লাহ, আব্দুর রশীদ সরকার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে ২০টি প্রস্তাবনা লিখিত আকারে ইসিকে প্রদান করা হয়।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by