logo

বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ৪ কার্তিক ১৪২৪, ২৮ মহররম ১৪৩৯

শিরোনাম

বন্যার প্রভাব পড়বে জিডিপিতে, সিপিডির পূর্বাভাস
১৯ অক্টোবর, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যার কারণে এ বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় এমন আভাসই পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সিপিডির সংলাপে বক্তারা বলেন, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তার একটি বড় কারণ দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে না পারা। তবে বন্যার কারণেই যে দ্রব্যমূল্যের এমন চিত্র, তা মেনে নেওয়া যায় না।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. আসাদুজ্জামান বলেন, এখানে খাদ্য সম্পর্কে একটা অনিশ্চয়তার ব্যাপার আছে। এই অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছিল, কারণ সরকারের ঝুলিতে এমন কিছু ছিল না। এটা সবাই জানত সরকারের ঝুলিতে কিছু নেই, সরকারের কিছু করার ক্ষমতা নেই।

আসাদুজ্জামান আরো বলেন, বোরোর নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতি, আমনের সম্ভাব্য ক্ষতি এবং সরকারের ঝুলিতে না থাকা, এই সবকিছু মিলেই বর্তমান খাদ্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তবে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির কারণে বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে হরিলুট হয়েছে এমন অভিযোগের সঙ্গেও একমত নন তিনি।

পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে লুট হতে পারে, তবে তা হরিলুট নয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু করাপশন (দুর্নীতি) হতে পারে, যেটা আমরা বন্ধ করতে পারিনি। কিন্তু আমি বলতে পারি যেভাবে বলা হচ্ছে, এভাবে কোনোদিন হতে পারে না।’

সিপিডি তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। আর যেটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার বড় অংশ এখনো বিতরণ করা হয়নি।

এসব ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ সম্ভু বলেন, যদি বিতরণ করা না হয়ে থাকে, তবে সেটা রাষ্ট্রের ফান্ডেই থেকে গেছে। কেন বিতরণ করা হয়নি সেই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গতরা বন্যা-পরবর্তী সময়ে কিছুটা স্বস্তি পান যদি ব্যাংকগুলো তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। এ ব্যাপারে সংলাপে কথা বলেন কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান।

সিপিডি তাদের গবেষণায় দেখায়, এ বছরের বন্যার আর্থিক ক্ষতি জিডিপির ০.৩৫ শতাংশ থেকে ০.৪৪ শতাংশ।

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জলবায়ুর যে পরিবর্তন হচ্ছে, সেটাকে বিবেচনায় না নিতে পারলে আগামী দিনে বন্যা ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা সীমিত হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এ বছর বন্যার কারণে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন। আমন ও আউশের ক্ষতি এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by