logo

শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭, ৫ কার্তিক ১৪২৪, ২৯ মহররম ১৪৩৯

শিরোনাম

নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি সংলাপে ৫৮৬ সুপারিশ
২০ অক্টোবর, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপে পাঁচ'শ ছিয়াশি সুপারিশ তুলে ধরেছে নিবন্ধিত চল্লিশাটি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে সেনা মোতায়েন চেয়েছে ২৬ টি আর নির্বাচনে সেনাবাহিনীর দরকার নেই বলে জানিয়েছে ৪টি রাজনৈতিক দলের। সংসদ বহাল ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছে ১৯ টি দল আর সংসদ বহাল রেখেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করে ৪ টি দল। এসব সুপারিশ আমলে নিয়ে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন সুপারিশগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার উপরই নির্ভর করবে এই সংলাপের সাফল্য আর ব্যর্থতা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসারে সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে গত ৩১শে জুলাই সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ আগস্ট থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি।

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই সংলাপে সবগুলো দলই তুলে ধরে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে করণীয়। আওয়ামী লীগের ১১ আর বিএনপির ২০ দফাসহ ৪০টি রাজনৈতিক দল তুলে ধরে ৫৮৬টি সুপারিশ।

এর মধ্যে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত, পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার রোধ, নির্ভুল ভোটার তালিকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অভিন্ন মতামত সবগুলো রাজনৈতিক দলেরই। অন্যদিকে নির্বাচনে সেনা মোতায়নের পক্ষে মত দিয়েছে ২৬টি রাজনৈতিক যদিও এর মধ্যে এর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা চেয়েছে ১০টি দল,আবার স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে চায় ১৩টি দল আর সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে বলেছে ৪ টি দল। কমিশনের কর্মপরিকল্পনায় ইভিএম না থাকলেও এই প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণ চায় ১১টি দল আর চায়নি ৮টি। এছাড়া খেলাফত মজলিশ, ইসলামী ফ্রন্ট ও জমিয়াতে উলামায়েই ইসলাম মত দিয়েছে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব বিধানের বিপক্ষে।

আবার কমিশনের এখতিয়ারে নয় এমন বিষয়ও বার বার উঠে এসেছে সংলাপে। চলতি সংসদ ভেঙে দিয়ে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় ১৯টি দল। ৭টি দল সাফ জানিয়ে দিয়েছে বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। বিষয়টি সংবিধান নির্ধারিত হওয়ায় আওয়ামী লীগসহ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কথা বলেনি বাকি ১৪ টি দল।

এসব সুপারিশ আমলে নিয়েই নিজেদের করণীয় ঠিক করবে বলে জানিয়েছেন কমিশন সচিব।

নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, 'কিছু কিছু প্রস্তাব পাওয়া গেছে যা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত, আবার কিছু রাজনৈতিক, কিছু সাংবিধানিক। এখন নির্বাচন কমিশন সব শুনে গেছে। পরবর্তীতে বসে বিশ্লেষণ করে কোনটা সরকারের কাছে যাবে বা যাবে না তা নির্ধারণ করা হবে।'

সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এই নির্বাচন কমিশন যে এ্যাপ্রোচ নিয়েছে, তাতে তারা কতটুকু লাভবান হবে তা আমি এখনো বলতে পারবো না। যখন তারা এগুলো ফাইনালি করবে তখন তা দেখে বলতে পারবো।'
আর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এই সংলাপের ফলাফল নির্ভর করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

২২শে অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন নারীনেত্রী,পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by