logo

শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৮ সফর ১৪৩৯

শিরোনাম

ভাষণ দেয়ার আগে বাবাকে ডেকে নিয়েছিলেন মা: প্রধানমন্ত্রী
১৮ নভেম্বর, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মার্চের ভাষণের কথা হলে প্রথমে মায়ের কথা মনে পড়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ৭ মার্চে ভাষণ দেয়ার আগে মা বাবাকে শোওয়ার ঘরে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, তুমি ১৫ মিনিট রেস্ট নাও। তখন অনেকের কাছ থেকে অনেক রকম পরামর্শ আসছিলো। মা যখন তাকে ঘরে নিয়ে যান, তখন তার পাশে আমি ছিলাম। তিনি বলেছিলেন, এই দেশের জনগণের জন্য তুমি সারাজীবন সংগ্রাম করেছো, আন্দোলন করেছো। অনেকে অনেক কথা বলবে, কিন্তু তুমি ভাষণে সেই কথাই বলবে, যেটা তোমার মনে আসবে। তুমি ভালো জানো কী বলতে হবে। এই দেশের মানুষের ভাগ্য তোমার হাতে।

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণের অংশ হিসেবে সাত মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি উপলক্ষ্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, মা রাজনীতি করেননি, কিন্তু তার রাজনৈতিক চেতনা ছিলো প্রবল। তিনি এসবই শিখেছেন আমার বাবার কাছে। তিনি রাজনীতি বিষয়ে যখন যে পরামর্শ দিয়েছেন, সেটার থেকে ভালো পরামর্শ আর হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পাকিস্তানের জান্তারা চায়নি বাংলাদেশের দায়ভার বাঙালির হাতে যাক। তারা বাঙালির মাতৃভাষার অধিকার, মা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিলো। ৪৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু ছাত্রসমাজকে বার বার সংগঠিত করে এসেছেন। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো। লাখো মানুষ তখন এখানে এসেছিলো। নৌকা নিয়ে, বাঁশের লাঠি নিয়ে। বাঙালি এসেছিলো জাতির পিতার কাছে দিকনির্দেশনা নিতে। মায়ের কথা মনে পড়ে, যিনি ছায়ার মতো বাবাকে সমর্থন করছেন সবসময়। আর তার অবর্তমানে তার আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে গেছেন।

দেশ বিদেশের বিভিন্ন ভাষণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে স্বীকৃতি পাওয়া ভাষণগুলোর সবই ছিলো লিখিত। এই ভাষণ লিখিত ছিলো না, ভাষণের সময় হাতে লেখা কোনো নোট নাই, কিচ্ছু নাই। কিভাবে কি করতে হবে তার প্রতিটি কথা তিনি এই ভাষণের মধ্যে দিয়ে বলে দিয়েছিলেন। জাতির পিতা অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, সেটা মানুষ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেছিলো। ৭ মার্চের ভাষণ একসময় নিষিদ্ধ ছিলো। সেটা আবার ফিরিয়ে নিতে কত মুজিবসেনাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সবাই যতই বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে চেয়েছে ততই ব্যর্থ হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা আরো বলেন, যারা সারা জীবন বাঙালিকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিলো তারা পরাজিত শক্তি। আর আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তি। জাতির পিতা এদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনেতিক মুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের যা কিছু আছে তা আমরা রক্ষা করে যাবো।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by