logo

মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

দেশের একটি মানুষও দরিদ্র থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
২১ নভেম্বর, ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের একটি মানুষও দরিদ্র থাকবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কখনও পিছিয়ে যেতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকার এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতি হিসেবে আজ আমরা বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছি। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার শক্তি আমরা অর্জন করেছি। এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে হবে।

তিনি বলেন, দরিদ্রের হার ২২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা আগে ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হবে বাংলাদেশ। এর জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তাতে প্রতিটি বাহিনী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য শিক্ষা ভাতা, কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে বিবাহ ভাতা, উৎসব ভাতা, দেশ-বিদেশে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা সরকার দিচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে গেরিলা যুদ্ধ হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে অনেকেই ছিলেন গেরিলাদের আশ্রয় দিয়েছেন, খাদ্য দিয়েছেন, অস্ত্র রেখেছেন, অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছেন, সংবাদ পরিবেশন করে সহযোগিতা করেছেন। আমাদের যুদ্ধটা ছিল জনযুদ্ধ।

সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সরকার মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেও জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

এ সময় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের আগামী জানুয়ারি থেকে বিশেষ ভাতা দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাচিত সদস্যদের পদক দেন তিনি।

এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০ জন, নৌবাহিনীর একজন এবং বিমানবাহিনীর একজন সদস্যকে ২০১৬-১৭ সালের শান্তিকালীন পদক এবং সেনাবাহিনীর ১০ জন, নৌবাহিনীর দুজন এবং বিমানবাহিনীর দুজন সদস্যকে ২০১৬-১৭ সালের অসামান্য সেবা পদকে ভূষিত করা হয়।

এর আগে সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে (শিখা চিরন্তন) পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন। সেই সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নিজামউদ্দিন আহমদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান তাকে স্বাগত জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান। সেখানে তিন বাহিনীর প্রধানরা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এএফডিতে পৌঁছলে এএফডির ডাইরেক্টরস জেনারেল এবং পিএসও তাকে অভ্যর্থনা জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয়।

এরপর দেশপ্রেমিক জনতা ও মুক্তিবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঐতিহাসিক দিবসটি প্রতি বছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও বিমান বাহিনীর ঘাঁটির মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by