logo

শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯

প্রবৃদ্ধির নিচে অন্ধকার: সিপিডি
১৩ জানুয়ারি, ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
সদ্য বিদায়ী ২০১৭ সাল যতটা প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হয়েছিল, শেষটা ততটা ইতিবাচক ছিল না। সব মিলে গেল বছরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ পড়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০১৭ সালের শুরুটা যতটা প্রতিশ্রুতিশীলভাবে শুরু হয়েছিল, সেই ধরনের উদ্যোম বা ইতিবাচক পরিস্থিতি শেষ করতে পারেনি। এর প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশ বিগত দশক ধরে একটি শোভন প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু এই শোভন প্রবৃদ্ধির হারের নিচে অন্ধকার রয়েছে।

“আর সেটি হলো দেশের ভিতরে প্রবৃদ্ধির তুলনায় সেই হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে না। দারিদ্র্য বিমোচনের হার শ্লথ হয়ে এসেছে। এছাড়া বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৈষম্য শুধু আয় ও ভোগে নয়, সবচেয়ে বেশি বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে সম্পদের ক্ষেত্রে।”

ড. দেবপ্রিয় বলেন, সম্পদে বৈষম্য সৃষ্টির প্রধান কারণ হচ্ছে- ব্যাংকের ঋণের টাকা ফেরত না দেওয়া, বড় বড় প্রকল্পগুলো থেকে ঠিকাদারের মাধ্যমে অর্থ ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়া। ফলে বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই গবেষক বলেন, প্রবৃদ্ধির গুণগত মান বাংলাদেশের যে পরিমাণ দরিদ্র মানুষ উপরে তোলার কথা সে পরিমাণ উপরে তুলতে পারছে না।

তিনি বলেন, আমরা যখন প্রবৃদ্ধির পরিমাণ নিয়ে চিন্তিত থাকতাম, সে জায়গায় আমাদের এখন সময় হয়েছে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান চিন্তা করার। আমাদের গবেষণায় বলে- একটি দেশে যদি ক্রমান্বয়ে আয় বৈষম্য বৃদ্ধি পায় তাহলে আগে হোক আর পরে হোক প্রবৃদ্ধি হারের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিদায়ী বছরে ব্যক্তি খাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়েনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসময়ে ব্যাংকের টাকা অপরিশোধিত হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাব প্রভাব ফেলেছে। এসময়ে খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

সার্বিকভাবে বলা যায় ২০১৭ সালে শুধু প্রবৃদ্ধির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন নয়। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বেশ কিছুটা দুর্বল বা চাপে পড়েছে। আর এটা হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার দূর্বলতা কারণে।

চলতি বছর বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন হবে- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৮ সাল হচ্ছে নির্বাচনের বছর। এ সময় জনতুষ্টিমূলক প্রকল্প নেয়া হবে। প্রকল্পগুলোর সর্বমোট টাকা না নিয়ে নামমাত্র টাকা দিয়ে প্রকল্প সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া থোক বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করি।

এ থেকে পরিত্রাণ পেতে একটি রক্ষণশীল অর্থনীতির দিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by