logo

শনিবার ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ৭ মাঘ ১৪২৪, ৩ জমাদিউল-আউয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত
২০ জানুয়ারি, ২০১৮
কক্সবাজার প্রতিনিধি
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতার মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক পরিস্থিতি সরজমিনে দেখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি।

শনিবার সকাল নয়টার দিকে তিনি টেকনাফের দমদমিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

এরপর তিনি টেকনাফ নেচার পার্কের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষ ও ১০ জন নারীর সঙ্গে কথা বলেন। এসময় রোহিঙ্গারা তাদের ওপর নির্যাতনের কথা বর্ণনা করেন।

গেলো আগস্ট মাসে সেনাক্যাম্পে হামলার পর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়। এ ধারা এখনো অব্যাহত আছে। তারা বিপৎসংকুল নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী শরণার্থী শিবিরে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানে এরইমধ্যে এক মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন এতিম শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ সব মিলিয়ে দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।

এই ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমার ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি পরিহার করার পাশাপাশি এই জনগোষ্ঠীকে নিজেদের দেশের নাগরিক বা স্বতন্ত্র নৃগোষ্ঠী বলেও স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়।

যদিও গত ১৬ জানুয়ারি মিয়ানমার ও বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের মধ্যে করা চুক্তিতে আগামী সপ্তাহে শুরু করে দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। প্রতিদিন ৩০০ করে রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যাবে। কয়েক মাস পর এই সংখ্যা বাড়ানো যায় কি না মিয়ানমার সরকার সেটি বিবেচনায় নেবে। এজন্য এক লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গার একটি তালিকা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা থমসন রয়টার্স ও ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্প সংখ্যক রোহিঙ্গা এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে কিছু দাবিনামা সামনে আনার চেষ্টা করছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে সেখানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলা।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একদল রোহিঙ্গা গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের একটি শরণার্থী শিবিরে বিক্ষোভ করেছে। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের একটি ব্লকে এই বিক্ষোভে শতাধিক শরণার্থী অংশ নেয়। যদিও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জানায়।

সফরকালে ইয়াং হি লির সঙ্গে ছিলেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ক্যাম্পে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কর্তকর্তারা।

এরপর বেলা ১২টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও দুপুরে রইক্ষ্যং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি গেলো বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান এবং শুক্রবার দুপুরে তিনি কক্সবাজার আসেন। চলতি মাসে তার মিয়ানমার সফরের কথা থাকলেও সে দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি মিয়ানমারের পরিবর্তে বাংলাদেশে সফরে আসেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by