logo

রবিবার ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ৮ মাঘ ১৪২৪, ৪ জমাদিউল-আউয়াল ১৪৩৯

বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই: কাদের
২১ জানুয়ারি, ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
গেলো নির্বাচনে বিএনপিকে নির্বাচনকালীন সরকারে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা আসেনি।

গত সংসদে তাদের প্রতিনিধি ছিল। এবার তো নেই। আগে দেখি এবার তারা কী বলে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।

বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন ইস্যু নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

তিনি বলেন, নির্বাচন ইস্যু নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রয়োজন দেখছি না।

গতকাল সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। এসব খবরে বলা হয়, নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে কথা বলছিলেন এই নেতা। এ সময় সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা কক্ষটির সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তখনো বিক্ষোভ ও স্লোগান অব্যাহত রাখেন ওই নেতারা।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি একজন মুসলমান, আমি কি নামাজও পড়তে পারব না। আমি দরজা বন্ধ করে একাকী নামাজ পড়লেও আপনারা লিখে দেন আমি জানি কী করছিলাম। এগুলো তো সুস্থ সাংবাদিকতা না। আপনাদের তো অবাধ স্বাধীনতা আছে। নিউজগুলো প্রকাশ করার আগে আপনাদের উচিত সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী একটু যাচাই-বাছাই করে নেওয়া। তাহলে আর ভুল বোঝাবুঝি হয় না। কালকের যে ঘটনা নিয়ে আপনারা সংবাদ করেছেন, আমার জানামতে সেখানে কোনো সাংবাদিক ছিল না। তাহলে আপনারাই বলেন, অনেকগুলো পত্রিকায় দেখলাম একই ধরনের সংবাদ। এগুলো দুঃখজনক।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর জেল খেটেছি। টানা নয় বছর মন্ত্রী, দলের সাধারণ সম্পাদক। এই অবস্থায় এসে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। দলের জন্য দেশের জন্য সর্বোচ্চটাই আমি এখন দিতে চাই। যেকোনো প্রকারে হোক আরো ওপরে ওঠার মনোভাব আমার নেই। কখনো ছিলও না।’

গতকাল ধানমণ্ডিতে তাঁকে ঘিরে কোনো বিক্ষোভ হয়নি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোনো কমিটিও গঠন হয় নাই। কমিটি বাতিলও হয় নাই। কমিটি না হওয়া পর্যন্ত আগের কমিটির সদস্যরা সাধারণ সদস্য হিসেবে থাকবেন।’

উপকমিটি কেন গঠন করা হয়নি—জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা যাচাই-বাছাই করছি। কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়ে কি না। কোনো মামলার আসামি আছে কি না। এগুলো যাচাই-বাছাই করতেই একটু সময় নিচ্ছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টা এমন একটা জায়গায় গেছে যে যেনতেন প্রকারেই হোক কমিটিতে নামটা ঢুকলেই তিনি এলাকায় গিয়ে বিশাল আকারের ছবি দিয়ে ওপরে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার ছবি দিয়ে পোস্টার-ফেস্টুনে ভরে ফেলেন। এমপিদের সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হন। এই কারণেই আমরা এইবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাচাই-বাছাই করে দলের ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে স্থান দেবো।’

গতকালের ঘটনার প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকদের জানতে চান, গতকাল তাঁকে (ওবায়দুল কাদের) যারা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, তারা অনুপ্রবেশকারী কি না? জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আগেই বলেছি কালকে আমাকে ঘিরে কোনো বিক্ষোভ হয়নি, আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি।’

তাহলে মন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে যে বিক্ষোভের ছবি ছাপা হয়েছে সেটা কিসের? জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা বিক্ষোভের ছবি নয়। তারা আনন্দ উল্লাস করছিল।’

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by