logo

বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৮ জমাদিউল-আউয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ে কারান্তরীণ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মানহানির একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছেন বাদী।

মানহানির অভিযোগ এনে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকীর দায়ের করা একটি মামলায় গত বছরের ১২ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবীর আদালত। আজ বুধবার সেই আদালতেই কারান্তরীণ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক এ বিষয়ে পরে আদালত দেবেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দখল করেন। জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাঁকে হুমকি ও অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীনতার ইতিহাস হুমকিযোগ্য ও মানহানিকর অপরাধ করায় তাঁকে মামলায় মরণোত্তর আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার সম্মান লঙ্ঘন করেছেন।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। একই মামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করার জন্য বিএনপি ও ২০ দলের পক্ষ থেকে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ের সত্যায়িত কপি চাওয়া হয়েছে। আজ বিকেলে তা মিলতে পারে বলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। রায়ের কপি পাওয়ার পর পরই উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আপিল করা হবে। যদি তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by