logo

মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল গ্রহণ করেছেন আদালত। আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। আদালত আপিলটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

ওই দিন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী কায়সার কামাল ও মুজিবুর রহমান।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, আবদুর রেজাক খান, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

এর আগে ২৫ যুক্তিতে আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করা হয়।

৬০ পৃষ্ঠার মূল আপিলে খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের জন্য এবং তাঁর জরিমানা স্থগিত ও দণ্ড বাতিল চাওয়া হয়েছে। আপিলে খালেদা জিয়ার পক্ষে ২৫টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার মামলার প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান।

মুজিবুর রহমান জানান, আপিলের এক নম্বর যুক্তিতে আছে, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়া তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়া যেসব যুক্তিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো- খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা করা হয়েছে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ এর ২ ধারায়। কিন্তু এই আইনে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়নি। সাজা দেওয়া হয়েছে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারার বিধান মোতাবেক। এই বিধির সাজা এখানে প্রযোজ্য হবে না।

অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান জানান,ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১, ২২২, ২২৩, ২৩৫, ২৩৯ অনুযায়ী মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এভাবে মোট ২৫টি যুক্তি দাখিল করে আদালতে আপিল করা হয়েছে।

আপিল করার আগে আজ সুপ্রিম কোর্ট বারের হলরুমে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীরা। এতে অংশ নেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, আবদুর রেজাক খান, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সানাউল্লাহ মিয়া, আমিনুল ইসলাম ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

গতকাল সোমবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দীন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাজা ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। রায়ে আসামি তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ‘আসামী ১) বেগম খালেদা জিয়া এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশনপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় তাঁকে দন্ড বিধির ৪০৯/১০৯ ধারা বিধান মোতাবেক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড এবং আসামী ২) তারেক রহমান (পলাতক), ৩) কাজী সালিমুল হক ওরফে কাজী কামাল, ৪) শরফুদ্দীন আহমেদ, ৫) ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী (পলাতক) এবং ৬) মমিনুর রহমান (পলাতক) এর বিরুদ্ধেও আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশনপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় দন্ড বিধির ৪০৯/১০৯ ধারার বিধান মোতাবেক ১০ (দশ) বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড এবং বর্ণিত সকল আসামীকে ২,১০,৭১,৬৪৩/৮০ (দুই কোটি দশ লক্ষ একাত্তর হাজার ছয় শত তেতাল্লিশ টাকা আশি পয়সা) অর্থ দন্ডে দন্ডিত করা হলো। উক্ত অর্থ দন্ডের টাকা সাজা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ কর্তৃক প্রত্যেককে সম অংকে প্রদান করতে হবে। আরোপিত অর্থ দন্ডের টাকা রাষ্ট্রের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত বলে গণ্য হবে। আগামী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে তাদের প্রত্যেককে উক্ত টাকা রাষ্ট্রের অনুকুলে আদায় দেওয়ার নির্দেশ দেয়া গেল।

জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের নামীয় সোনালী ব্যাংক, গুলশান নিউ নর্থ সার্কেল শাখা, ঢাকায় রক্ষিত এসটিডি-৭ নং হিসাবে জমাকৃত সাকুল্য টাকা রাষ্ট্রীয় অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করা হলো।’

রায়ে আরো বলা হয়েছে, ‘দণ্ডিত ব্যক্তিগণের হাজতবাস (যদি থাকে) মূল দন্ডাদেশ থেকে বিধি মোতাবেক কর্তিত হবে।

আসামী বেগম খালেদা জিয়া, কাজী সলিমুল হক ওরফে কাজী কামাল এবং শরফুদ্দীন আহমেদকে সি/ডাব্লিও মূলে কারাগারে প্রেরণ করা হোক।

দন্ডিত কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, তারেক রহমান এবং মমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। পুলিশ কর্তৃক ধৃত বা দন্ডিত ব্যক্তি আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে উক্ত দন্ডাদেশ কার্যকর হবে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by