logo

শনিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ রজব ১৪৩৯

দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে : রিজভী
বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
১৪ এপ্রিল, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের দুঃশাসন, লুটপাট ও দুর্নীতির করালগ্রাসে দেশে এখন নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে।’ নিত্যপণ্যসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ না থাকায় নতুন কর্মসংস্থান নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আজ শুক্রবার সকালে দলটির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গত বছরের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের ফসলহানির পর সরকারের সব দিকে ব্যর্থতার কারণে চালের দামসহ সব খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। মানুষ এখন ঠিকভাবে দুবেলা দুমুঠো ভাতও পাচ্ছে না।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষ সরকারঘোষিত ১০ টাকা কেজির চাল নিতে গেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়। ১০ টাকা কেজির চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় নিজেদের ভাগাভাগি নিয়ে দফায় দফায় গুলিবর্ষণ, আক্রমণ ও সংঘর্ষ চলে। এদিকে বিক্ষুব্ধ জনগণ, সরকারি দলের সংগঠনগুলোর মনোনীত ডিলারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করলে, এই ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর ওপর গুলি চালায় তারা।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই দেশে দুর্ভিক্ষ নামে। ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষের কথা মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। কুড়িগ্রামের ঘটনা ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষেরই আলামত। বিশ্বের কোথাও ক্ষুধার্ত মানুষকে নিয়ে এত নির্মমতা নজিরবিহীন। এরা এত নিষ্ঠুর যে ক্ষুধার্ত মানুষকে গুলি করতেও দ্বিধা করে না।’

জনগণ ভোট দিলে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে—প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আপনি কি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন? আপনি তো নিজের ভোটও নিজেকে দেননি। দেশ পরিচালনা করতে আপনাদের তো জনগণের ভোটের প্রয়োজন হয় না। আপনাদের মুখে জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার কথা রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার চায় ভোট ছাড়া আবারও কীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখা যায়। সেই পথের নকশা এঁটেই খালেদা জিয়াকে জাল নথির মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এবার জনগণের ভোটাধিকার জনগণ প্রয়োগ করবেই। যেকোনো ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন কখনো বৃথা যায় না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনের কাছে সরকার যেভাবে মাথানত করেছে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায্য আন্দোলনও বৃথা যাবে না। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সেই আন্দোলনে বিজয় অর্জিত হবেই।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না দাবি করে এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়াবিহীন জাতীয় নির্বাচন আর এ দেশে অনুষ্ঠিত হবে না, জনগণ তা হতে দেবে না। আর বেশি সময় নেই, আপনাদের সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, এ মুহূর্তে সর্বপ্রথম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর তা না হলে জনগণ আর অপেক্ষা করবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং শেখ হাসিনার পতন একসঙ্গে সংঘটিত হবে।’

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, দলের যুগ্ম মহাসচিব মেয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by