logo

মঙ্গলবার; এপ্রিল ১৭, ২০১৮

জাবিতে উপাচার্যপন্থী ও শরীফ এনামুল কবীরপন্থী শিক্ষকদের হাতাহাতি
১৭ এপ্রিল, ২০১৮
জাবি সংবাদদাতা:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাক্ট বিরোধী প্রভোষ্ট নিয়োগের প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘটে অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরপন্থী শিক্ষক ও উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল পরিবহন ডিপোতে এ ঘটনা ঘটে। পরে সকাল ৮ টা থেকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে শরীফ এনামুল কবীরপন্থী শিক্ষকরা। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে এই ঘটনার বিচার দাবি করে উপাচার্যকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে শরীফপন্থী শিক্ষকরা।
জানা যায়, উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘন করে ৯টি হলের প্রভোস্ট নিয়োগকে কেন্দ্র করে ধর্মঘট ডাকে ‘বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। যার অংশ হিসেবে ভোর পাঁচটার দিকে অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী কয়েকজন শিক্ষক পরিবহন ডিপোর সামনে অবস্থান নেন। এসময় তারা পরিবহন ডিপোর ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অনুসারী শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শরীফ এনামুল কবীরপন্থী শিক্ষকরা গাড়ি আটকাতে গেলে উপাচার্য পন্থী শিক্ষকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের করা ভিডিওতে শিক্ষকরা ধাক্কাধাক্কি করতেও দেখা গেছে। এমনকি গালাগাল করতেও দেখা গেছে অনেককে।
শরীফ এনামুল কবীরপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ বলেন, উপাচার্যের অবৈধ নিয়োগের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালন করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিসহ উপাচার্যপন্থী প্রায় ২৫ জন শিক্ষক এসে আমাদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। এতে ৬ জন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়।
অন্যদিকে এ ঘটনায় উপাচার্যপন্থী কয়েকজন শিক্ষকও লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে দাবি করেন রবীন্দ্রনাথ হলের নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত প্রভোষ্ট অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফী।
এদিকে ভোরে হাতাহাতির ঘটনার পর সকাল ৮টায় অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরপন্থী প্রায় ৪০ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট পালন করেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে তাদের অবস্থান ধর্মঘট সরিয়ে নিতে বললে শিক্ষকরা অস্বীকৃতি জানান। এতে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় উপাচার্য বলেন, ৯টি হলের প্রভোস্ট প্রশাসনিক কাজ বন্ধ রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। উপাচার্য অবস্থানরত শিক্ষকদের সরিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে তার অনুসারী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে।
পরে লাঞ্ছনার ঘটনার বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষকরা। এ সময় তারা প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ ও শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার বিচার করতে উপাচার্যকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় তারা উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা আন্দোলনে যাবেন বলে জানান।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by