logo

শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮, ৭ বৈশাখ ১৪২৫, ৩ শাবান ১৪৩৯

ঝুলে গেছে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন!
মাঠে নেই বিএনপি, মনোযোগ সিটি নির্বাচনে
২০ এপ্রিল, ২০১৮
নউজ ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন দুই মাস দশ দিন। তার মুক্তির দাবিতে দলটির আন্দোলন কর্মসূচি ক্রমশ শিথিল হয়ে আসছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে সারাদেশে কোন কর্মসূচি নেই। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল সারাদেশে লিফলেট বিতরণ করে দলটি। তারপর চুপচাপ। এখন দলের পুরো মনোযোগ খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে। নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যস্ত তারা। গতকাল বৃহস্পতিবারও জোটের শরিকদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করেছে বিএনপি।

জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথের আন্দোলনের বদলে আইনি লড়াইয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখতে চাচ্ছেন দায়িত্বশীল নেতারা। তবে আদালতেও তারা হতাশ হচ্ছেন। কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে এরই মধ্যে তিন বছর আগের পেট্রোল বোমা হামলায় আট জনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দেখিয়েছে কুমিল্লার একটি আদালত, নাকচ হয়েছে তার জামিন আবেদনও। এই অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে জামিনে বিএনপি নেত্রীর মুক্তির জন্য আগামী ৮ মের শুনানির দিকে তাকিয়ে বিএনপি। হাইকোর্ট গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জন্য জামিন দিয়ে যে আদেশ দিয়েছিল এর বিরুদ্ধে আপিলের ওপর শুনানি হবে আগামী মাসের শুরুতে।

এদিকে আন্দোলনের বদলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নিয়ে খোদ দলেরই একাংশে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। মঙ্গলবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক সমাবেশে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন, ‘আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে না পারলে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে জীবিত মুক্তি দিবে না। জেলগেটে তার লাশ ফেরত নিতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আগে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারপর নির্বাচনের চিন্তা করতে হবে। জনগণের কাছে ম্যাসেজ যাচ্ছে বিএনপির কাছে নির্বাচনটা বড়, খালেদার মুক্তি নয়। তাহলে সরকার কেন তাকে মুক্তি দেবে।’

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়া জেলে যাওয়ার পর হতে সপ্তাহে তিন-চারটি কর্মসূচি পালন করে আসছিল দলটি। এর মধ্যে ছিল: সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান, লিফলেট বিতরণ, স্মারকলিপি প্রদান ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ। তবে জনসভার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে তিন দফা ব্যর্থ হওয়ার পর আর কোনো কর্মসূচি দেয়নি দলটি। অবশ্য এই সময়ে পাঁচটি বিভাগে জনসভা হয়েছে।

দলের কোন কোন নেতা বলছেন, সরকারের নির্বাচনকেন্দ্রিক মেরুকরণই আন্দোলনের নতুন মাত্রা তৈরি করবে। আর তারা ওই পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছেন। গত ২ এপ্রিল দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কাউন্সিল, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠকে আন্দোলন বেগবান করার পরামর্শ আসে। শান্তিপূর্ণ ধারায়ই আরও গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। যদিও পরবর্তী দুই সপ্তাহে কোন অগ্রগতি প্রতিফলিত হয়নি। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কৌশল একটাই, রাস্তায় নামা, জনগণ রাস্তায় নামবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের অস্ত্রকে শাণিত করছে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে জোরদার আন্দোলন আসছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় হয়ে যাওয়া বিএনপির সমাবেশে স্থানীয় নেতারা জোরদার আন্দোলন চেয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত হবে না, মুক্তি একমাত্র হতে পারে আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে। আমরা সেই চেষ্টা করছি। নির্বাচন যখন কাছে আসবে, পরিবেশ যখন উত্তপ্ত হবে, তখন বিএনপি শক্ত কর্মসূচি দেবে।

এদিকে বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য ইত্তেফাক’কে বলেন, চেয়ারপার্সন কারাবন্দী হওয়ার পর শুরুতে আমাদের কর্মসূচিগুলোতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছিলাম। কিন্তু একই ধরনের কর্মসূচি ঘুরেফিরে আসায় একঘেয়েমি দেখা দিয়েছে। তবে আমরা বসে নেই। সামনে কঠোর আন্দোলন হবে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কারো উস্কানিতে পা দিতে ও হঠকারী কর্মসূচি দিতে নিষেধ করেছেন বেগম জিয়া। এ কারণে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছে। এটা অব্যাহত থাকবে। রাজপথে কর্মসূচির পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ম্যাডামের মুক্তি নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা কর্মসূচিতে আছি। আমরা মনে করি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে আনব। সামনে রমজান, ঈদ উৎসব আছে। এটাও ভাবতে হচ্ছে। আমরা একটা ম্যাচিউরড সময়ের অপেক্ষা করছি। সময় হলে অবশ্যই কর্মসূচিতে যাব। সরকার কর্ণপাত না করলে অবরোধ, ধর্মঘটসহ যা লাগবে দল তাই করবে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by