logo

শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮, ৭ বৈশাখ ১৪২৫, ৩ শাবান ১৪৩৯

বেনাপোল সীমান্তে যাত্রী হয়রানি
ভ্রমণ কর ও টার্মিনাল চার্জ পরিশোধে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়
২০ এপ্রিল, ২০১৮
নউজ ডেস্ক
বেনাপোল স্থল বন্দরে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভারতগামী যাত্রীরা। ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর ও ৪০ টাকা ৭০ পয়সা আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল চার্জ পরিশোধ করতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন তারা। যদি কেউ দালালদের সহায়তা নিতে না চান তাহলে এই দুই কর ও চার্জ পরিশোধ করতে গিয়ে স্বাভাবিক সময়ে তার অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। এরপরই তিনি ইমিগ্রেশনের দিকে পা বাড়াতে পারেন। উত্সবের সময় যাত্রী চাপ বাড়লে উল্লিখিত সময়টা আরো অনেক বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়, আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল চার্জ পরিশোধ করতে হয় বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বুথে। সেখানে তিনটি কাউন্টারে তিনজন এ চার্জ গ্রহণ করেন। এই চার্জ দেওয়ার জন্য ভোর থেকে দুইটি লাইনে দাঁড়িয়ে যান যাত্রীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে অন্তত তিন থেকে চারশ মানুষ থাকেন প্রতিটি লাইনে। এই চার্জ পরিশোধে একেকজন যাত্রীর দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। অভিযোগ আছে চার্জ ৪০ টাকা ৭০ পয়সা হলেও প্রত্যেকের কাছ থেকে অন্তত ১০ টাকা করে বেশি আদায় করা হয়।

ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে গিয়েও একই অবস্থার শিকার হতে হয় যাত্রীদের। সোনালী ব্যাংক বেনাপোল চেকপোস্ট বুথে দুই কাউন্টারে দুইজন ভ্রমণ কর নেন। সেখানেও দুই লাইন হয়। তিন থেকে চারশ যাত্রী থাকেন প্রতি লাইনে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক বুথে টাকা দিতে গিয়েও কিছু অতিরিক্ত দিতে হয়। আর প্রতি যাত্রীর কর পরিশোধে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। খুলনার এক যাত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনি খুলনার ব্যাংকে ভ্রমণ কর পরিশোধ করে আসেননি কেন। তিনি উত্তর দেন সেখানে দিলে তার রশিদ নিয়ে এখানে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় বলা হয় এটি জাল। খতিয়ে দেখতে হবে। তাই ঝামেলা এড়াতে কষ্ট হলেও এখানেই দিচ্ছি।

তবে বিকল্প ব্যবস্থাও আছে। সেটি হলো ‘দালাল ধরা’। দালাল ধরলে উল্লিখিত দুই কর ও চার্জ পরিশোধে বেশি সময় লাগে না। লাইনেও দাঁড়াতে হয় না। দালালদের কোনো নির্ধারিত রেট নেই। তারা যার কাছ যা পারে আদায় করে। তবে সেটি কমপক্ষে প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দেড়শ থেকে দুইশ টাকার নিচে নয়। সচ্ছল যাত্রীদের জন্য এটি হয়তো বড় কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দরিদ্র মানুষ বিশেষ করে রোগীদের জন্য এসব অতিরিক্ত ব্যয় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

ভারতগামী বাংলাদেশি যাত্রী আব্দুল জলিল জানালেন, বেনাপোল চেকপোস্ট পার হয়ে পেট্রাপোল থেকে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন ভাড়া মাত্র ১৭ রুপি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেতে হলে দিতে হয় ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর এবং আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল চার্জ ৪০ টাকা ৭০ পয়সা। এ সব করের টাকার সঙ্গে আবার বাড়তি টাকাও গুনতে হয় যাত্রীদের। সোনালী ব্যাংকের ব্যুথের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ কর দেয়াটাও অনেক কষ্টকর বলে জানালেন তিনি।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশান পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুম কাজী জানান, ব্যাংকে ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে যাত্রীদের বেশ নাজেহাল হতে হয়। বিশেষ করে রোগী ও শিশুদের সমস্যা হয় বেশি।

ভারতগামী যাত্রী রংপুরের স্বপন ভট্রচার্য, ময়মনসিংহের শিল্পী রানী, নেত্রকোনার পবিত্র কুমার দত্ত, ফকিরহাটের পরিতোষ পাল এবং খুলনার মনোরঞ্জন বিশ্বাস জানান, আমাদের ভারত ঘুরে আসতে যে টাকা খরচ হয় তার চেয়ে বেশি খরচ হয় ভ্রমণ কর দিতে। তারপরেও হয়রানি আর ঝামেলার শেষ নেই। তারা এই ভ্রমণ কর প্রত্যাহারের দাবি জানান।

উল্লেখ করা যেতে পারে, কলকাতা কাছে হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বেনাপোল দিয়েই ভারতে যেতে পছন্দ করেন। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার ক্ষেত্রে বিশেষ আরো বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রীরা যাতায়ত করে থাকেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by