logo

শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৩৯

আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে!
২১ এপ্রিল, ২০১৮
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পথ ছেড়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার আভাস দিয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন জোরদার করাই হবে এই পরিবর্তিত পথে অগ্রসর হবার লক্ষ্য। তারই প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে। তবে কবে নাগাত আন্দোলনে আসবে সে বিষয়ে জানাতে পারেনি কোন নেতা।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেবার পর থেকে মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। তবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির পরিবর্তে তার কারাবরণ দীর্ঘতর হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় জেনেই নতুন সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে দলটি। তারই অংশ হিসেবে আগামীতে কঠোর আন্দোলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে নেতারা। সেই আন্দোলনে, দাবি আদায়ে নেতাকর্মীদের একযোগে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নেত্রীর কারাবরণের পর বিএনপির পক্ষ থেকে ওই মাসে টানা ১৩ দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এর মধ্যে মানববন্ধন, কালো পতাকা প্রদর্শন, বিক্ষোভ-সমাবেশ ছিল উল্লেখযোগ্য।

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ১৩ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি, ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচি, ১৭ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, ১৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাইরে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দলটি।

২৪ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার থানাগুলোতে প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই দিন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন না করে দলটির নেতাকর্মীরা ফটোসেশনে ব্যস্ত থাকেন।

পরবর্তীতে পহেলা মার্চ সারাদেশে লিফলেট বিতরণ করে বিএনপি। ৬ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসবের মধ্যে শুধু গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। চেয়ারপারসনের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

বিএনপি সূ্ত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসলেও তার মুক্তিতে তেমন কোনো প্রভাব পরেনি। এমন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আগামীতেও তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না, এটা বুঝতে পেরেই দলের পক্ষ থেকে নতুন সিদ্ধান্তের দিকে যাবার কথা ভাবা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে কঠোর এবং জোরদার আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে। তবে কবে নাগাত আন্দোলনে নামবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলন নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগারে। আমরা বলি বেগম খালেদা জিয়া না, কারাগারে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জনগনের অধিকার, আশা আকাঙ্ক্ষা সব কিছু আজ কারা রুদ্ধ করা হয়েছে। তা মুক্ত করতে হবে, আর মুক্ত করার জন্য যখন যা করা দরকার তখন সেটা করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে জোরদার আন্দোলন আসছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জে (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে আগামীতে নতুন কর্মসূচি আসতে পারে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি বলেন, আন্দোলন বলে কয়ে হয় না। দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যাবে, তখন আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না। তবে বিএনপি থেমে নেই। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে। আগামীতে নতুন সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by