logo

মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ০৭ শাবান ১৪৩৯

তারেকের নাগরিকত্ব নিয়ে দাবি অদ্ভুত: ফখরুল
২৪ এপ্রিল, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান চার বছর আগে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট জমা দেয়ায় তার নাগরিকত্ব নেই বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বক্তব্যকে ‘অদ্ভুত, যুক্তিহীন ও বেআইনি’ বলেছে বিএনপি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তার নাগরিকত্ব বর্জন করার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি নেতা।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের শুরুতে গ্রেপ্তার তারেক রহমান ২০০৮ সালের শেষের দিকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে যান চিকিৎসার জন্য। জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দেশে ফেরেননি।

এর মধ্যে তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। আর ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, স্ত্রী জোবাইদা ও মেয়ে জাইমার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জমা দেন। তার সেই পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

গত পাঁচ বছরেও তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট নবায়নে বা হাতে লেখা পাসপোর্টের বদলে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেননি।

গত ২১ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া এক সংবর্ধনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট বর্জন করেছেন।

রবিবার এই বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর বিএনপির পক্ষ থেকে তারেকের জমা দেয়া পাসপোর্ট প্রদর্শনের চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়। একই দিন তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং তার বক্তব্য ছাপা হওয়া দুই পত্রিকা কালের কণ্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদককে পাঠানো হয় আইনি নোটিশ।

আর দেশে ফিরে একই দিন তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেয়ার নথি দেখান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

পাসপোর্ট হস্তান্তর করার অর্থই কি নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি এটাই মনে করব। বিদেশে আপনার পরিচয়- আপনার পাসপোর্ট। সেই পাসপোর্টটিই যখন আপনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন, তার অর্থ আপনি নাগরিকত্ব ক্লেইম করছেন না... আপনার কাছে একটাই পরিচয়পত্র ছিল, আপনি তা হস্তান্তর করে দিয়েছেন, এটা কী বোঝায়?’

তবে বিএনপি মহাসচিব আজকের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারেক রহমান তার এই প্রিয় দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন থাকবেন।’

‘তার (তারেক) নাগরিকত্ব বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অদ্ভুত,যুক্তিহীন ও বেআইনি।’

তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়ে ফখরুলের ব্যাখ্যা এমন: ‘সরকারবিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতোই সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন এবং সঙ্গতভাবেই তিনি তা পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সে দেশের আইন অনুযায়ী তার পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেয়া হয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তার কোনো কাজে আসছে না। যখনই তিনি দেশে ফেরার মতো সুস্থ হবেন, তখনই তিনি দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতোই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে এবং তা অর্জন করতে পারবেন।’

‘কাজেই স্রেফ retention অর্থাৎ জমা রাখার জন্য ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগ থেকে তার পাসপোর্ট লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানোর যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তার দ্বারাও কোন আইন কিংবা যুক্তিতে প্রমাণ হয় না যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন। এ ধরনের উদ্ভট ধারনাকে তত্ত্ব কিংবা তথ্য হিসেবে সাংবাদিকের সামনে উপস্থাপন কিংবা ফেসবুকে প্রচার রাজনৈতিক মূর্খতা এবং উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে আক্রমণ করে ফখরুল বলেন, ‘কী কী কারণে একজন নাগরিক জন্মসূত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব হারাতে পারেন এটাও যিনি জানেন না, তেমন একজন ব্যক্তির শুধু এ ধরনের অনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী থাকা সম্ভব এবং তা জাতির জন্য লজ্জাজনক।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকত্ব বিষয়ে যে চিঠি প্রচার করেছেন তাতে ১৩টি ভুল রয়েছে দাবি করেন ফখরুল। বলেন, ‘এই ধরনের ভুল ব্রিটিশদের পক্ষে করা অসম্ভব। প্রতিমন্ত্রী যে দাবি করছেন তা রহস্যজনক এবং সন্দেহজনক।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যখন জনগণ ফুঁসে উঠেছে, আন্দোলন শুরু হয়েছে তখন কৌশল, অপকৌশল করে এটাকে ডাইভারশন করতে তারেক রহমানের নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে ‘

‘এমনটা তারা আগেও করেছে। আমরা বলতে চাই তারেক রহমানের নাগরিকত্ব বিসর্জন দেয়ার কোনো কারণ নেই।’

দুই মামলায় দণ্ডিত তারেক

এর মধ্যে বিদেশে অর্থপাচারের এক মামলায় ২০১৬ সালে তারেক রহমানের সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়। আর গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া যে মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানার রায় পেয়েছেন, সেদিন তারেক রহমানের সমপরিমাণ জরিমানা এবং ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করে বিএনপি এবং তিনি লন্ডন থেকেই দলের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে দল চালাচ্ছেন।

আবার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। চলতি বছরই এই মামলার রায় প্রকাশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by