logo

সোমবার, ১৪ মে ২০১৮, ৩১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৭ শাবান ১৪৩৯

সেনাদের ভাতের ব্যবস্থা না করে আমিও ভাত খাইনি: প্রধানমন্ত্রী
১৪ মে, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
বিএনপি সরকারের আমলে সেনা সদস্যদের দুর্ভোগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসি। আসার পর সেনাবাহিনীর দরবারে যাই। সেখানে সেনা সদস্যরা আমাকে জানায়, তাদের দুপুরে ভাত খেতে পারে না, তাদের রুটি খেতে দেওয়া হয়। এই সঙ্গে তারা আমাকে আরও কিছু কষ্টের কথাও বলে, যা আমার খারাপ লেগেছিল। আমিও বলেছিলাম, তাদের ভাতের ব্যবস্থা না করে আমিও ভাত খাব না।’

তিনি বলেন, ‘এরপর তাদের ভাতের ব্যবস্থা করেছি এবং আমি নিজেও ভাত খেয়েছি।’

রোববার (১৩ মে) ঢাকা সেনানিবাসে ক্যান্সার সেন্টারসহ সারাদেশে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৭ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাতের ব্যবস্থা কীভাবে হবে? আমরা তো ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতির বোঝা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলাম।’

তিনি আরও জানান, যাতে খাদ্যের কোনো ঘাটতি না হয় সে লক্ষ্যে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে তার সরকার ২৬ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য মজুদ করতে সক্ষম হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক। আমার ভাই শেখ কামাল মুক্তিযোদ্ধা, সে ছিল ক্যাপ্টেন। আমার অপর ভাই শেখ জামাল ছিল লেফটেন্যান্ট। এমনকি আমার ছোট ভাই রাসেলকে জিজ্ঞাসা করা হলেও সে বলত, সেনাবাহিনীর সদস্য হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক পঁচাত্তরে ১৫ আগস্ট সপরিবারে সবাই নিহত হয়েছিল।’

‘সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে এ বাহিনীর উন্নয়ন করা আমাদের কর্তব্য’ বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সেনা সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। সৈনিক আবাসনের জন্য বহুতল ব্যারাক তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আমরা প্যারা কমান্ড গঠন করেছি। আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতাকে বহুল অংশে বৃদ্ধি করেছি। সমগ্র বাংলাদেশের ২ লাখ মানুষের মতো মানুষের ঘরবাড়ি নেই। আমরা ভাবছি তাদের ঘরবাড়ি করে দেব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে সেনাবাহিনীর অফিসার পদে নারীদের যোগদানের সুযোগ করে দিই। এরপর ২০১৩ সালে আমরা সৈনিক পদে মেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্তদের চিকিৎসার সুযোগ করে দিয়েছি। যাতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনারা সকলেই সমান সুযোগ পায়। ’

জাতীয় সংসদে বিএনপির অর্থমন্ত্রী (প্রয়াত) সাইফুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সাইফুর রহমান বলেছিলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া ভালো। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে তাতে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায় না। আমি তখন বলেছিলাম, আমরা হাত পেতে চলতে চাই না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমরা ভিক্ষুকের সরকার হতে চাই না। আপনারা চাইলে হতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮ ধরেছি। তবে আমি মনে করছি, এই হার ৭ দশমিক ৭ তো অবশ্যই হবে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনেও একটি উন্নত দেশ করতে সরকারের পাশেই সেনাবাহিনী থাকবে বলে আশাবাদী তিনি।

বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ছড়িয়ে দিতে নিজ দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শান্তিরক্ষী মিশন সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম রয়েছে সারাবিশ্বে।’

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের সোনা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সেনাবাহিনীকে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো প্রেসক্রিপশন দিয়ে দেশ পরিচালনা করা যায় না। যা কিছুতে দেশের মানুষের কল্যাণ হয় তার সরকার সে সব বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য শেখ হাসিনা সরকার কাজ করে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করায় তার সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।’

মহাকাশে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এখন জল স্থল ও আকাশ ও অবস্থান করছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by