logo

সোমবার, ১৪ মে ২০১৮, ৩১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৭ শাবান ১৪৩৯

রমজান মাসের নিত্যপণ্য
দাম না বাড়াতে আবারও প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ীদের
১৪ মে, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়াতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পণ্যউৎপাদক, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

সেবার মনোভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার পরামর্শ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। তেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুরসহ সব নিত্যপণ্যের মজুদ চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে।

তাই রমজানে পণ্য সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই। কৃত্রিম উপায়ে কোনো পণ্যের দামবৃদ্ধি বা মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরবরাহে যাতে কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেজন্য সব আমদানি পয়েন্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাসের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা হবে না।

আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনাসহ মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি রোধে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিসহ ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের ডাকা হয়। সিটি গ্র“প, মেঘনা গ্র“প, টিকে গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, এসএস গ্রুপসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।

এছাড়া বৈঠকে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসুু, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) জহির উদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, এনএসআই, ডিসিসিআই এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের ও বাজার কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মজুদ পণ্যের খতিয়ান এবং পাইকারি ও খুচরা দাম তুলে ধরেন। পণ্যের সংকট হবে না এবং দামও বাড়বে না বলে বাণিজ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন তারা। একই ইস্যুতে ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকেও ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আপনারা সেবার মনোভাব নিয়ে ব্যবসা করুন। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সহনীয় পর্যায়ে লাভ করুন। রমজানে সঠিকভাবে পণ্য সরবরাহ করুন।

তিনি বলেন, চিনি ও পেঁয়াজ ছাড়া অন্য সব নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে। গতবারের চেয়ে এবার মসুর ডালের দাম ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ছোলা ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, রসুন (আমদানি) ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ, রসুন (দেশি) ৩৯ শতাংশ, চিনি ১৬ শতাংশ, লবণ ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। তবে পেঁয়াজের দাম যেভাবে বেড়েছিল তার থেকে এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে। পেঁয়াজের যে চাহিদা দেশীয় উৎপাদন থেকে তা পূরণ হয় না। তাই ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে হয়। এতে সময় বেশি লাগলে পেঁয়াজ পচে যায়, নষ্ট হয়। বিশ্ববাজারে চিনির দাম কমে যাওয়ায় রমজানে এবার এর দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

রমজানের শুরুতে একসঙ্গে পুরো মাসের বাজার না করে ধাপে ধাপে পণ্য কিনতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক সঙ্গে পুরো মাসের বাজার করলে বাজারে এর প্রভাব পড়ে। এ কারণে প্রথম দিকের দাম দিয়ে সারা মাসের দাম বিচার করা ঠিক নয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটে পণ্য পরিবহনে ঝামেলা হচ্ছে জানিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, অনেক কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রোজায় বিভিন্ন নিত্যপণ্যের পাইকারি দামের পাশাপাশি খুচরা দাম নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।

এর আগে বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশ ফার্নিচার অ্যান্ড ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর এক্সপো-১৮’- এর উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ ফার্নিচার রফতানিকারক সমিতি, ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সেক্টর আয়োজিত চারদিনব্যাপী পঞ্চমবারের মতো মেলায় ১৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

এতে ১০টি ফার্নিচার ও হোম ফার্নিসিং খাতে ৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মেলা আগামী ১৬ মে পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by