logo

বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯

গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, আমার সময়ে তার চেয়ে বেশি হয়েছে
১৭ মে, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
ঢাকা দক্ষিণ অংশে বিগত ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, তার ৩ বছরে এর বেশি কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

তিনি বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর ডিএসসিসির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। দশ ভাগ এলাকায়ও সড়কবাতি ছিল না, ৮৫ ভাগ সড়কই ভাঙাচোরা ছিল, বেহাল আবর্জনা ব্যবস্থায় অন্তহীন ভোগান্তিতে ছিলেন নগরবাসী। সেই অবস্থা থেকে ডিএসসিসি উত্তরণ ঘটিয়েছে। সর্বত্র এখন ডিএসসিসির উন্নয়ন কাজের প্রশংসা হচ্ছে, নগরবাসী শান্তিতে বসবাস করছেন। মেয়াদকালের বাকি ২ বছরে ডিএসসিসিকে আরও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলবেন বলে নগরবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মেয়র।

বুধবার রাজধানীর ফুলবাড়ীয়ার নগর ভবন মিলনায়তনে দায়িত্ব পালনের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির মেয়র এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিএসসিসির মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। এটা ওয়াসার কাজ হলেও এ সমস্যা সমাধানে ডিএসসিসি, রাজউকও কাজ করছে। ভবিষ্যতে সমন্বয় সভাকে আরও বেশি কার্যকর করে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ সময় আরও বলেন, শান্তিনগর এলাকার ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করেছে ডিএসসিসি। আর পুরাতন ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এবারের বর্ষায় ওই সড়কে জলাবদ্ধতা হবে না।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে হলে ৫৬টি সংস্থাকেই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে। আশা করি, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান ঘটবে এবং ঢাকা শহর সত্যি সত্যিই বাসযোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকাকে আমরা ঢাকার মতো করেই গড়ে তুলতে চাই। ইউরোপ-আমেরিকার শহরের মতো করে ঢাকাকে গড়ে তেলা সম্ভব নয়। ঢাকার চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ঢাকাকে গড়ে তোলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ডিএসসিসিকে বাসোপযোগী, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরীরূপে গড়ে তুলতে গত ৩ বছরে সরকারি তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ (জিওবি) ও নিজস্ব অর্থায়নে নাগরিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৪৭৩ কিলোমিটার সড়ক, ১১২ কিলোমিটার ফুটপাত সংস্কার, ৪৬৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। আর ২৫৯ কিলোমিটার সড়ক, ২৬১ কিলোমিটার ড্রেন এবং ৫১ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। রাতের অন্ধকারচ্ছন্ন ঢাকাকে আলোকিত করতে ৩৭ হাজার ৯৭৯টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪০০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে। ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠের আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এসব মাঠ আগামী বছরের জুনের মধ্যেই উন্মুক্ত করা হবে। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সড়কটি উন্নত বিশ্বের শহরের আদলে গড়ে তোলা হবে। এটাকে মডেল সড়ক হিসেবে গণ্য করা হবে। অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে খালের ১২০ একর জমি উদ্ধার করেছে ডিএসসিসি।

বাড়ির ছাদে গাছ লাগালে গৃহকর মওকুফ : সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে নগরবাসীকে বাসাবাড়ির ছাড়ে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। বলেছেন, কেউ বাসা-বাড়িতে গাছ লাগালে গৃহকর ১০ ভাগ মওকুফ করা হবে। তবে কারও বাসায় মশার প্রজনন ক্ষেত্র পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সে লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহ থেকে ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি টিম পরিদর্শন কাজ শুরু করবে।

যানজট নিরসন : ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে ডিএসসিসি বিগত ৩ বছরে মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টি বাস-বে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ৩টির কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া ৪টি ইন্টারসেকশন উন্নয়নসহ ৭১টি স্বচ্ছ পুলিশ বক্স নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮টি পুলিশ বক্সের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ৫টি উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণের ৮টি এলাকায় ৫৬০টি স্থানে অনস্ট্রিট পার্কিং চালু করা হয়েছে।

পাবলিক টয়লেট নির্মাণ : নগরবাসীর সুবিধার কথা ভেবে ডিএসসিসি এলাকায় অত্যাধুনিক ১৯টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে উš§ুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আরও ৪৭টির মধ্যে ১৫টির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার পথে।

ডিএসসিসিভুক্ত আট ইউনিয়নে উন্নয়ন শুরু : ৭৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া ইউনিয়নের ১৫২ কিলোমিটার সড়ক, ৬ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৫৮ কিলোমিটার নর্দমা, ১৪৩ কিলোমিটার সড়কে এলইডি লাইট, ৭ হাজার ৬৩টি বৃক্ষ রোপণসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ হবে।

এছাড়া মাণ্ডা, ডেমরা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও ইউনিয়নের জন্য ৪৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫ কিলোমিটার সড়ক, ৪৮ কিলোমিটার নর্দমা, ৭ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৭টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

এসটিএস নির্মাণ : পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১০টি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভবন (এসটিএস) চালু হয়েছে। আরও ১৩টির নির্মাণ কাজ চলমান। ডিএসসিসি ও প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিদিন প্রায় ৮০০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ টন ক্ষতিকর বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধন করা হচ্ছে।

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ : ল্যান্ডফিলে বর্জ্য অপসারণ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর তথা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৭২৫ কোটি টাকার ‘মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির কাউন্সিলর, কর্মকর্তারা এবং ডিএসসিসির বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by