logo

বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ০৬ রমজান ১৪৩৯

সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ
২৩ মে, ২০১৮
অগ্রগতি ধীর হলেও আসছে বাজেটে সরকারি বেসরকারি অংশিদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তত ত্রিশ ভাগ পিপিপিতে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৭৮টি প্রকল্প পিপিপিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পিপিপিতে নজর সরকারের। এতে একদিকে সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কাজে আসবে। গেলো মার্চে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে মোট বিনিয়োগ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করতে পিপিপি আইন, প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন এবং পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিমালা-২০১৭ এরই মধ্যে প্রণয়ণ করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার হিসাব মতে, সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১-এর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে দেশের ভৌত অবকাঠামো ও সেবা খাতে প্রতিবছর বিনিয়োগ প্রয়োজন মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশের সমান অর্থ। অর্থাত্ প্রতিবছর কমপক্ষে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। যেখানে পিপিপির মাধ্যমে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে জিডিপির ১ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাত্ প্রতিবছর পিপিপি প্রকল্পে বিনিয়োগ হতে হবে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার, যা অবকাঠামো ও সেবা খাতের মোট বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ। এজন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পিপিপি প্রকল্পে গতি আসবে। কারণ, তার নির্দেশনা হলো অনুশাসন যা মন্ত্রণালয়গুলোকে মেনে চলতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ ভাগ বেসরকারি খাতের অংশ থাকলে উন্নয়ন প্রক্রিয়া আরো দ্রুততর হবে। তিনি বলেন, পিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে এই খাতে আরো অনেকেই এগিয়ে আসবে তখন এর বাস্তবায়ন দ্রুত হারে বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, এডিপিতে নেওয়া ৭৮টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্প ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো হলো, মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্প, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ২ স্থাপন প্রকল্প, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মোংলা বন্দরের দুটি জেটি নির্মাণ প্রকল্প, রাজউকের আওতায় মধ্যবিত্তদের জন্য বহুতল ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প, সিলেটের শ্রীমঙ্গলে বয়স্কদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল অবসর নির্মাণ প্রকল্প, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের ব্লক ৩ এর কার্যক্রম, হোমোডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্প রয়েছে।

অন্যদিকে ৭৮টি প্রকল্পের মধ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রয়েছে ১৮টি প্রকল্প। এগুলো হলো, নাফ ট্যুরিজম প্রকল্প, টংঙ্গী ও ডেমরাতে দুটি পৃথক টেক্সটাইল মিল নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা বাইপাস (মদনপুর-দেবোগ্রাম-ভুলতা-জয়দেবপুর) প্রকল্প, হাতিরঝিলের রামপুরা ব্রিজ-শেখের জায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে চট্টগ্রামে একটি পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণ প্রকল্প, রেলওয়ের হাসপাতাল সংলগ্ন অব্যবহূত জমির উপর মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং ইন্সটিটিউট স্থাপন প্রকল্প, চট্টগ্রামে রেলওয়ের অব্যবহূত জমিতে শপিংমলসহ হোটেল ও গেস্ট হাউজ নির্মাণ প্রকল্প, পর্যটন কর্পোরেশনের অধীনে কক্সবাজারে একটি ট্যুরিজম কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, সিলেটে একটি পাঁচতারকা মানের হোটেল নির্মাণ প্রকল্প, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে খানপুরে একটি স্থল কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, রাজউকের অধীনে শান্তিনগর হতে মাওয়া সড়ক পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা ৪র্থ সেতুসহ ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প, পূর্বাচল নতুন শহরে পানি ও অন্যান্য সুবিধা স্থাপন প্রকল্প, ঢাকার মহাখালীতে আইটি ভিলেজ, সিলেটে হাইটেক পার্ক নির্মাণ প্রকল্প, গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য ওয়েলফেয়ার সেন্টার ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প।

আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপি পিপিপির আওতায় সড়ক প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আউটার রিং রোড (মোট দৈর্ঘ্য ১২৯ কিলোমিটার) হেমায়েতপুর-কালাকান্দি-মদনপুর-ডেমরা-বাইপাইল-গাজীপুর-হেমায়েতপুর পর্যন্ত নির্মাণ প্রকল্প। উভয়পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীতকরণ প্রকল্প, নবীনগর-মানিকগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকার যানজট নিরসনে এর চারপাশে বৃত্তাকার রুট নির্মাণ প্রকল্প।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by