logo

বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ০৭ রমজান ১৪৩৯

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর
তিস্তা চুক্তির ফয়সালা হোক
২৪ মে, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ও জাতীয় কবি নজরুলসংশ্লিষ্ট দুটি অনুষ্ঠান এবং শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আগামীকাল ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি আগে থেকেই ঠিক করা ছিল, এবার সে বৈঠকটি ত্রিপাক্ষিক হতে যাচ্ছে। কারণ, অন্য প্রোগ্রাম বাদ দিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাই এর আগে একাধিকবার মমতার আপত্তিতে আমাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি না হলেও এবারের বৈঠকটি আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে বলে আশা করা যায়। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। তারপরও আমাদের ন্যায্য অধিকার তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া বাংলাদেশের জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার এ সফরে বিষয়টির সুরাহা করে ভারত ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদে বিভিন্ন সময় তিস্তা চুক্তি হবে, হচ্ছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে বহুবার আশ্বস্ত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিস্তা চুক্তি আটকে থাকা দুঃখজনক। আসন্ন হাসিনা-মোদি-মমতা বৈঠকে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে তিস্তা ইস্যুর সমাধান হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি হওয়া এবং ভাটির দেশ হিসেবে পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া যে আমাদের অধিকার ভারতকে তা বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রতিবেশী আল্লাহপ্রদত্ত উপহার। চাইলেই কেউ একে বদলাতে পারে না। ফলে বিশ্বায়নের এ যুগে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সুবিধা আদান-প্রদান করা যায়, তা হয়ে উঠেছে বিশ্বের দেশগুলোর বিবেচ্য বিষয়।

ভারতের সঙ্গে আমাদের বর্তমান সম্পর্ক সেভাবেই বিবেচনা করছে দুই দেশ। ইতিমধ্যে সীমান্ত ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণসংক্রান্ত চুক্তিসহ দ্বিপাক্ষিক নানা ঝুলন্ত ইস্যুর সমাধান তারই প্রতিফলন। ভারত আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী ও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আমাদের সরকার তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে দিল্লিকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ভারতীয় পণ্যের একটি বড় বাজার। তাছাড়া ভারতের চিকিৎসা ও পর্যটন খাতে বাংলাদেশের মানুষ বড় ভূমিকা রাখছে। এমনকি বৈধ-অবৈধভাবে এ দেশে কাজ করা ভারতীয়রা তাদের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এর বিপরীতে আমাদের প্রাপ্তি খুব বেশি নয়। বিষয়টি ভারতের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, একপক্ষের উদারতার বিপরীতে অন্যপক্ষের উদাসীনতা সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে সুখকর করতে পারে না।

আমরা আশা করব, তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। এছাড়া বাংলাদেশের পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কবহির্ভূত বাধা দূরীকরণে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসবে দিল্লি। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনসহ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েই মোদি সরকারের ‘প্রতিবেশী ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবে রূপ পাবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছবে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by