logo

শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ০৮ রমজান ১৪৩৯

শান্তিনিকেতনে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা
২৫ মে, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলছেন দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। সাক্ষী থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

আজ শুক্রবার এই তিন নেতাকে একসঙ্গে দেখা যাবে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন মঞ্চে। শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লিতে নির্মিত বাংলাদেশ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। এটাই হবে আজকের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সকাল সাড়ে ১০টায় সমাবর্তন উৎসব ও বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই দুটি অনুষ্ঠান ঘিরে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ঘিরে রাখা হয়েছে।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোদি। তিনি আচার্য হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বিশ্বভারতী সফর। তবে শেখ হাসিনা এর আগে বিশ্বভারতীর সর্বোচ্চ সম্মান ‘দেশিকোত্তম’ গ্রহণ করতে এসেছিলেন।

আজ বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিসহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর । তাঁরা গতকালই কলকাতায় এসেছেন।

বাংলাদেশ ভবনের নির্মাণকাজের অগ্রগতি দেখতে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তিন দিন ধরে শান্তিনিকেতনে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এই বাংলাদেশ ভবন নির্মিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ভবন আমাদের দুদেশের বন্ধুত্বকে আরও নিবিড় করবে। এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন দিকের উন্মোচন হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসিনা-মোদির একান্ত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে। তবে তিনি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের দুদেশের নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং সমস্যা নিয়ে অতীতে আলোচনা হয়েছে। এবং অনেক সমস্যার সমাধানও হয়েছে। তবে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আসাদুজ্জামান নূর।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়সহ জঙ্গিবাদ, যৌথ নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত অনুপ্রবেশের বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে।

মোদি-হাসিনার বৈঠক শেষ হওয়ার পর শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানা বৈঠক করবেন বিশ্বভারতীতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। জানা গেছে, এবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বভারতীর কৃতী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার একটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা হতে পারে।

গতকাল বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তিনিকেতনে এসে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি। দুই বাংলার সম্পর্ক চিরদিনের।’ শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। মমতা বলেন, ‘সমাবর্তন উৎসবে আমি দুই রাজার মাঝে থাকলাম। বলব, “এসো আমার ঘরে এসো।”’
মমতা এবারের বিশ্বভারতীর সর্বোচ্চ সম্মান দেশিকোত্তম প্রদানের অনুষ্ঠান স্থগিত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অমিতাভ বচ্চন, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, যোগেন চৌধুরীরা কি রাজনীতির লোক? যদিও এবারে দেশিকোত্তম সম্মাননা প্রাপকদের তালিকায় তাঁদের নাম ছিল।
মোদি ও হাসিনা দুজনই আজ সকালে কলকাতার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে শান্তিনিকেতন আসবেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by