logo

রোববার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১০ রমজান ১৪৩৯

আ’লীগে একাধিক প্রার্থী একক জাতীয় পার্টিতে
আইনি জটিলতায় খোকা
২৭ মে, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
ঢাকা-৬ আসনটি মূলত রাজধানীর আদি এলাকা। দেশের বড় তিন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। ঢাকা-৬ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। এ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী একাধিক থাকলেও একক প্রার্থী জাতীয় পার্টিতে। তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা নির্বাচন করতে পারলে তিনি আবারও মনোনয়ন পাবেন এটা নিশ্চিত। আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচন করতে না পারলে এ আসনে আসবে নতুন মুখ। সব মিলে জাতীয় পার্টি চায় আসনটিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। আর বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি চায় হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে।

ঢাকা-৬ আসনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাদেক হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাদেক হোসেন খোকা আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলুল করিমকে পরাজিত করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাদেক হোসেন খোকা আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাঈদ খোকনকে পরাজিত করেন।

তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাদেক হোসেন খোকা আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিজানুর রহমান খানের কাছে পরাজিত হন। তিনিই এ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিটে জেতা প্রথম এমপি। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি নির্বাচন বয়কট করায় মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদকে মনোনয়ন দিলে প্রায় বিনা বাধায় তিনি এমপি নির্বাচিত হন। এবার অবশ্য জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে চায় না আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা এবারও একক নির্বাচনের কথা বললেও সিদ্ধান্ত হলে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে তাদের আপত্তি নেই।

আওয়ামী লীগ : দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য প্রার্থী নেই। আর এ সুযোগে সেখানে থিতু হতে চাইছেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। এরা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন। মনোনয়ন পেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদও এ আসনে নির্বাচন করতে চান বলে যুগান্তরকে জানান। তবে এ নিয়ে দলের সভাপতির সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।

এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু আহমেদ মান্নাফী একজন মুক্তিযোদ্ধা। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন এবং ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু।

এখানে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও কোনো কোন্দল নেই। কারণ সবাই চাচ্ছে শরিক দলকে ছাড় না দিয়ে নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন। তারা প্রত্যেকেই গণসংযোগ করছেন। এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে দলের শীর্ষ মহলে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

মান্নাফি যুগান্তরকে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা, কাউন্সিলর এবং সিনিয়র রাজনীতিবিদ হিসেবে এই আসনের সবার কাছে আমি সুপরিচিত। বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। দলের মনোনয়ন পেলে নৌকার জয় নিশ্চিত করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। একই বক্তব্য স্বপনেরও।

তিনি এ আসনের স্থায়ী বাসিন্দা। শিক্ষিত ও সজ্জন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তার বক্তব্য দলের নিজস্ব এমপি না থাকলে নেতাকর্মীদের অভিভাবক থাকে না। এ আসনকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলতে চান আওয়ামী লীগের তরুণ এ নেতা।

বিএনপি : এ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করতে আগ্রহী। তারা নানা অনুষ্ঠানে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা কয়েকবার এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচন করতে পারলে কোনো বিকল্পই আসবে না।

তবে সাজার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হলে তার ছেলে ইশরাক হোসেনকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারকে এই আসনে প্রার্থী করা হতে পারেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে আছেন তরুণ নেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. লিটন। পুরান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক এ ছাত্রনেতা মামলা-হামলা উপেক্ষা করে নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

একাধিকার নির্বাচিত এমপি সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। পুরান ঢাকায় খোকার আলাদা ভোটব্যাংক রয়েছে। নির্বাচনের বিষয়ে টেলিফোনে কথা হয় খোকার সঙ্গে। তিনি জানান, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন বিএনপির দাবি। তাই নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় সিদ্ধান্তের পরই অংশগ্রহণের বিষয়ে কথা বলা যাবে। এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কাজী আবুল বাশার। এলাকায় তার ভালো প্রভাব আছে। দলে শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় কখনও নির্বাচন করার আগ্রহ দেখাননি। তবে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। তবে খোকার সমর্থন ছাড়া কেউ এ আসনে প্রার্থী হওয়ার সাহস দেখাবে না। কারণ এ আসনে বিএনপির টিকিটে জিততে হলে খোকার সমর্থন অবশ্যই লাগবে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কাজী আবুল বাশার যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন পুরান ঢাকার মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের সঙ্গে আছি। এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করছি। দল মনোনয়ন দিলে সবার সহযোগিতায় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি আবারও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

জাতীয় পার্টি : ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। এবারও তিনি এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। একক অথবা মহাজোটের শরিক উভয় চিন্তা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ফিরোজ রশিদ বলেন, নির্দিষ্ট সময় নয়, রাজনীতিবিদরা সব সময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেন। আমিও প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিটি কর্পোরেশনের কাজের বাইরে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন বলে জানান তিনি। সিনিয়র এ রাজনীতিবিদ বলেন, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে কয়েকটি পানির পাম্প বসানো হয়েছে, একটি নির্মাণাধীন।

তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা অনেকটা দখলমুক্ত করতে পারলেও পানি বিশুদ্ধকরণের কাজ সফল করা সম্ভব হয়নি। তবে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ সিস্টেম, স্কুল-কলেজে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। একজন সংসদ সদস্যের পক্ষে যতটা নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায় তার সবটুকু তিনি করেছেন। এছাড়া দখল হয়ে যাওয়া বালুরমাঠ উদ্ধার করেছেন। আইনশৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে উন্নয়ন কাজ করিয়েছি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সমর্থন পাবেন এবং জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by