logo

রবিবার, ১০ জুন ২০১৮, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ রমজান ১৪৩৯

বিনামূল্যে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট পেল ১২১ প্রতিবন্ধী
১০ জুন, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
বিনামূল্যে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট পেল ১২১ শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু। এসব ডিভাইসের একেকটির দাম প্রায় ১০ লাখ টাকা। জন্মগত বধির শিশুদের কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট ডিভাইস প্রতিস্থাপনের ফলে তারা কথা বলাসহ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট বরাদ্দপত্র প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি বলেন, শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা কানে শুনতে না পাওয়ায় তারা কথাও বলতে পারে না। এসব শিশুদের বাবা ও মায়েরা কোনোদিন তাদের প্রিয় সন্তানের মুখে মা ও বাবা ডাক শুনতে পান না। তবে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে বর্তমানে দেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা কানে শুনতে ও কথা বলতে পারছে।

তিনি বলেন, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট এক ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস। যার প্রতিটির মূল্য ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ১২১ শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুকে প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট ডিভাইস বিনামূল্যে প্রদান করা হল। কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট সার্জারির পর শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে আরও সুন্দরভাবে ভাষা শিখতে পারে সেজন্য অডিওলজি বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স চালু এবং নাক কান গলা বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ সব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান।

সভাপতিত্ব করেন কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট বরাদ্দ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কার্যক্রমের কর্মসূচি পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল হাসনাত জোয়ারদার। তিনি বলেন, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট ডিভাইস প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচারের খরচ ও শিশুর কথা শেখানোর জন্য স্পিচ থেরাপির খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে। প্রকৃতপক্ষে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবা। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া যা অনেকের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২০৩ জনকে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট বরাদ্দপত্র প্রদান করা হয়েছে। আজকের ১২১ জনকে নিয়ে মোট ৩২৪ শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুকে বরাদ্দপত্র প্রদান করা হল।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আরও ২৯ জনের কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট ডিভাইস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যারা নিজেরাই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেছে। সব মিলিয়ে ৩৫৩ শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুকে এ সেবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ২২৮ জনের কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট ডিভাইস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তাদের কথা বলা শেখানো হচ্ছে ও এক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবা ও কথা শেখানোর ক্ষেত্রে সফলতার হার শতভাগ। তিনি জানান, বাংলাদেশের ৯ দশমিক ৬ ভাগ মানুষ প্রতিবন্ধী ধরনের বধিরতা এবং ১ দশমিক ২ ভাগ মানুষ মারাত্মক ধরনের শ্রবণ প্রতিবন্ধিতায় ভোগেন। হিয়ারিং এইড ব্যবহার করেও যারা কানে শুনতে পান না- কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট প্রতিস্থাপনে তারা কানে শুনতে পাবেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by