logo

বুধবার, ১৩ জুন ২০১৮, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমজান ১৪৩৯

আবারও পাহাড় ধসে মৃত্যু
ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রোধ করতে হবে
১৩ জুন, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
গত বছর পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পর ধারণা করা হয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসের প্রবণতা কমবে। কিন্তু বাস্তবে লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ঢালে ও নিচে ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। এ কারণেই বারবার পাহাড় ধসে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। কিছুদিন আগে বান্দরবানে পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনার পর এ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটিতে ১১ জনের মৃত্যু এবং মঙ্গলবার সকালে পাহাড় ধসে কক্সবাজারে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হল, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসের প্রবণতা কমছে না কেন? মঙ্গলবার যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাঙ্গামাটির পাহাড় ধসের ঘটনায় আরও কয়েকজন মাটিচাপা পড়ে থাকতে পারেন। তাদের উদ্ধারে নেয়া হোক সর্বাত্মক প্রয়াস।

বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকার পাহাড়গুলোর গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বারবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও যারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করেন, তারা কি এ বিষয়টি অবগত আছেন? দেশের পার্বত্য এলাকায় মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে বারবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। এসব তথ্য কমবেশি জানার পরও অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করেন। এতে এটাই স্পষ্ট যে, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার কারণেই তারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছেন। কেউ যাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসে আগ্রহী না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত বিকল্প বাসস্থান তৈরির পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানবসৃষ্ট কারণে যাতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা না বাড়ে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, এটা প্রত্যাশিত হলেও বাস্তবে তা লক্ষ করা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ঘর তৈরি অব্যাহত রেখেছেন।

ছিন্নমূল মানুষ কম খরচে সেসব ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করে থাকেন। এসব কারণেই পাহাড় ধসে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেই কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। ছিন্নমূল মানুষের বসবাসের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা না হলে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পর তারা আবারও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসে আগ্রহী হবে। মানবসৃষ্ট কারণে যাতে পাহাড় ধসে হতাহতের সংখ্যা না বাড়ে সেজন্য কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by