logo

সোমবার, ০৯ জুলাই ২০১৮, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

রাজশাহী সিটি নির্বাচন
লিটনের ইশতেহার প্রস্তুত, বুলবুলের শুরু হয়নি
০৯ জুলাই, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
মেয়র নির্বাচিত হলে রাজশাহীর মানুষের জন্য কী কী করতে চান তা জানাতে নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করে ফেলেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। উন্নয়নের বার্তা আর স্বাস্থ্যসম্মত তিলোত্তমা নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি থাকবে সাবেক এই মেয়রের এবারের ইশতেহারে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এখনো নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করতে পারেননি এই সদ্য সাবেক মেয়র। তবে তার নির্বাচনী ইশতেহারে খুব বেশি উন্নয়নের বার্তা থাকবে না বলে জানা গেছে।

দুই প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন ২০০৮ সালের সিটি নির্বাচনে ২৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন। মেয়র নির্বাচিত হয়ে সেই ইশতেহারের প্রায় সব কাজই করেন তিনি। সর্বশেষ গত ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে লিটন ৩৭ দফা ইশতেহার প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি।

অন্যদিকে ২০১৩ সালে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সেই ইশতেহারের সামান্যই বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তিনি। পদ্মাপারের এই শহর ভাঙা রাস্তাঘাট, যানজট ও ময়লা আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয় তার আমলে। এ অবস্থায় এবার নির্বাচনী ইশতেহারে কী কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায়- তা-ই চূড়ান্ত করতে পারেননি বুলবুল।

নির্বাচনী ইশতেহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে রবিবার রাতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘আমাদের ইশতেহার এখনো প্রস্তুত হয়নি। এ নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না। শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই তো হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে। সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই ১৪ জুলাইয়ের পর আমি আমার ইশতেহার ঘোষণা করব।’

তবে খায়রুজ্জামান লিটনের ইশতেহার প্রস্তুতের কথা জানালেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। তিনি বলেন, ‘প্রায় শতাধিক দফার নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত। আগামী ১০ জুলাই বেলা ১২টায় দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। ইশতেহারে পাঁচ তারকা হোটেল, ক্রিকেট ভেন্যু, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ট ফাউন্ডেশন, এক লাখ বেকারের কর্মসংস্থানসহ নানা বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে থাকবে।’

গত নির্বাচনের ইশতেহার বাস্তবায়ন না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদ্য সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র ২২ মাস। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী ওয়াদার ৮০ শতাংশ পূরণ করেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না থাকলে সব প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।’

তবে নগরীর উন্নয়ন না হওয়ায় বুলবুলের ব্যর্থতা আছে বলে মনে করেন অনেক নগরবাসী। তাদের মতে, দলীয় কর্মকা-ের কারণেই তাকে জেল খাটতে হয়েছে, বরখাস্ত হতে হয়েছে মেয়রের পদ থেকে।

নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বর্তমান নগরীর পরিসর ৭৫ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৩৫০ বর্গকিলোমিটার করতে চাই। রাজশাহী মহানগর পুলিশের নতুন ১২টি থানা এলাকা নিয়ে আমরা সিটি করপোরেশনের নতুন এলাকা ঘোষণা করতে চাই। তাহলে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হবে।’

‘পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা নির্মাণ, বড় বড় রাস্তা, লেক, খেলার মাঠ, দর্শনীয় স্থান, বিনোদনমূলক জায়গা, সাংস্কৃতিক এলাকা- সবকিছু মিলিয়ে একটি চমৎকার শহর গড়ে তুলতে চাই। রাজশাহীকে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুরের মতো এশিয়ার মধ্যে একটি অন্যতম বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ এমনটাই বলেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে খায়রুজ্জামান লিটন।

আওয়ামী লীগ বা বিএনপির প্রার্থী বলে কথা নয়, যিনি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন, তাকেই মেয়র নির্বাচিত করবেন বলেই জানান। নগরীর অটোরিকশাচালক আফজাল হোসেন বলেন, দেখে, শুনে, বুঝে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রাজশাহীসহ তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ সোমবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে ভোট নেয়া হবে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by