logo

সোমবার, ০৯ জুলাই ২০১৮, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনের দাবি
০৯ জুলাই, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
আগামী দুই টার্মের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন, আসন সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সোমবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

সেই সঙ্গে নির্বাচনের বিধান না রেখে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সময়সীমা ২৫ বছর রেখে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম যে, নারী আন্দোলনের দীর্ঘ তিন দশকের সুপারিশ এবং বর্তমান সরকারের জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ঘোষণার নিজস্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের বিধান না রেখে সংবিধানের ৬৫ (৩) অনুচ্ছেদে সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী আসনের সময় সীমা ২৫ বছর রেখে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস হলো। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের বিধান না রেখে এই বিল পাস হওয়ায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর বিস্ময় প্রকাশ করছে।

এই ধরনের আইন পাস হওয়ায় আমরা মনি করি, আমাদের প্রচলিত নারীর প্রতি যে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নারীর অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা হলো। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিধান রেখে ২৫ বছরের সময়সীমা বাড়িয়ে এই বিল পাস হওয়ায় তা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়ে দেয়া প্রতিশ্রুতির সাথেই শুধু সাংঘর্ষিকই নয়, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই সরকার কর্তৃক দেয়া বিভিন্ন বক্তব্য, গৃহীত নীতি (জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি) এবং জাতিসংঘ ঘোষিত সিডও সনদ ও এসডিজির সাথেও সাংঘর্ষিক বলে মহিলা পরিষদ মনে করে।

আমরা উল্লেখ করতে চাই গত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ১২.২ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি ছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হবে, তারা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।’ এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ তেও ৩২.৭ নং অনুচ্ছেদে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ বর্ধিত করা এবং বর্ধিত আসনসমূহে সরাসরি নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

আমরা তীব্রভাবে আশংকা করছি এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ দেশের আপামর নারী সমাজের চলমান অগ্রযাত্রাকে বিপন্ন ও অনিরাপদ করে তুলবে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by