logo

বুধবার, ১১ জুলাই ২০১৮, ২৭ আষাঢ় ১৪২৫, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৯

শিরোনাম

একনেকে ৬ প্রকল্প অনুমোদন
সাড়ে ৫শ খাদ্য গুদাম মেরামত করা হবে
১১ জুলাই, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
সারাদেশে ৫৫০টি খাদ্য গুদাম মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ২০টি গুদামের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৩১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সারাদেশে পুরাতন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদির মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ২ হাজার ৯২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সংশোধিত।

সভা শেষে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, আমরা খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, এটা ধরে রাখতে হবে। এজন্য আমাদের বিতরণ ও মজুদ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৬২টি জেলার ১৯৪টি উপজেলা ও ৭টি সিটি করপোরেশনের ৫৫০টি গুদাম মেরামত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার ল্যাবরেটরীতে যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বিভিন্ন গুদামে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ ৭২৫টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেজগাঁওয়ের সরকারি খাদ্য গুদামের অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। এই খাদ্য গুদাম দেখে প্রধানমন্ত্রী অবাক হয়েছেন। খাদ্য গুদাম ময়লা, ভাঙা, এখানে পানি পড়ে।

সভায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে খাদ্য গুদামসমূহের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২১ লাখ টন। ২০২১ সালের মধ্যে তা ৩০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ১ম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী দ্রুত শেষ করতে বলেছেন। এটি চলতি বছর শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও ২০২০ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ২০১৯ সালেই চীন সরকার এটা নির্মাণ করে দিতে চেয়েছে। সকল অবকাঠামো চীনে নির্মিত হবে শুধু পূর্বাচলে এগুলো ফিটিং করা হবে। ফলে বার্ধিত মেয়াদের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ৭৯৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি এখন ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। এতে চীন সরকার ৬২৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। সভায় জানানো হয়েছে, প্রকল্পটির জন্য উপযুক্ত জমি যথাসময়ে পাওয়া যায়নি, ফলে এর বাস্তবায়ন কাজ পিছিয়ে যায়।

সভায় ৬৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২টি প্রশাসনিক ভবন, ৬টি একাডেমিক ভবন, মাঠ গবেষণাগার, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৩টি হোস্টেল ভবনসহ নানা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে সমস্ত জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেসব জেলায় পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। প্রয়োজনে দুই-তিনটি জেলা মিলিয়ে হলেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে।

সভায় ২৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাইজদী-রাজগঞ্জ-ছয়ানী-বসুরহাট-চন্দ্রগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ২১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর আওতায় বাস্তবায়িতব্য খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য লিংক (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ১৭০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭টি জেলার সার্কিট হাউজের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by