logo

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলকদ ১৪৩৯

নিজ দফতরে মামলা করার উদ্যোগ
দুদক নজির পেয়েছে ৩ দেশে
চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে সরকারকে
১৯ জুলাই, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় নয়, দুর্নীতি দমন সংস্থায় মামলা দায়েরের নজির খুঁজে পেয়েছে দুদক। তিনটি দেশে এ ধরনের মামলা করার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দেশগুলো হচ্ছে সিঙ্গাপুর, হংকং ও মিয়ানমার। এসব দেশে দুর্নীতি দমন সংস্থায়ই দুর্নীতির মামলা রেকর্ড করা হয়। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে লিখিতভাবে জানিয়েছে দুদক। নিজ দফতরে মামলা দায়েরসহ দুদক বিধিমালায় বেশ কিছু সংশোধনীর জন্য গত বছর সরকারের কাছে প্রস্তাব করে সংস্থাটি। ওই প্রস্তাব বিচার-বিশ্লেষণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত এপ্রিলে দুদককে একটি চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে কোনো কোনো দেশে দুর্নীতি দমন সংস্থায় মামলা দায়েরের নজির আছে তা জানাতে বলা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত এপ্রিলেই দুদক বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করে। তিনটি দেশ থেকে দুদককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, তারা দুর্নীতি দমন সংস্থায় মামলা দায়ের করে। এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, ই-মেইলে আমাদের অনুরোধপত্র পেয়ে সিঙ্গাপুর, হংকং ও মিয়ানমার থেকে জানানো হয়েছে- ওইসব দেশে দুর্নীতি দমন সংস্থায়ই দুর্নীতির মামলা রেকর্ড করা হয়।

দুদকের আইন ও প্রসিকিশন শাখার মহাপরিচালক মো. মঈদুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে জানান, দুদকের বিধিমালায় সংশোধনী আনার জন্য দুদক থেকে একটি প্রস্তাব বছরখানেক আগে মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হয়েছিল। তাতে তাদের কিছু কোয়ারি ছিল। আমরা সেটা পূরণ করেছি। যে তিনটি দেশে দুর্নীতি দমন সংস্থায় মামলা করা যায় ওই দেশের নামসহ বিস্তারিত তথ্য আমরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানিয়েছি। দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিনের স্বাক্ষরে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এখন এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ছাড়াও নিজ দফতরে মামলা করার নজির বাংলাদেশেই রয়েছে এমন তথ্য দিয়ে দুদকের আইন শাখার মহাপরিচালক মো. মঈদুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের মামলা ওই সংস্থায় করা হয়। তারাই তদন্ত করে।

দুদক সূত্র জানায়, বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধি, দুদক আইন ও বিধি অনুসরণ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা থানায় হাজির হয়ে দুর্নীতির মামলা করে থাকেন। কিন্তু এটা দুদকের স্বাধীন সত্তার পরিপন্থী। এ অবস্থায় নিজ কার্যালয়ে মামলা দায়েরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে বিধিমালায় সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। তাতে নিজ দফতরে মামলা দায়েরের যুক্তিও তুলে ধরা হয়। এর যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়, ‘২০০৪ সালের আইন অনুযায়ী দুদক স্বাধীন।

এ সংস্থার নিজস্ব অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আছে। মামলা পরিচালনার জন্য আছে নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট। দুদকের তফসিলভুক্ত যে কোনো অপরাধের তদন্ত কার্যক্রম শুরুর জন্য থানায় এজাহার দায়ের বা থানা মুখাপেক্ষী থাকা কমিশনের স্বাধীন ও স্বশাসিত সত্তার পরিপন্থী। এছাড়া থানায় এজাহার দায়েরের অবাধ সুযোগ থাকায় অযথা হয়রানির আশঙ্কাও থাকে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘দুদক বনাম মহীউদ্দীন খান আলমগীর’ মামলায় দুদকে এজাহার দায়েরের কথা আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ২০০৭ সালের বিধিমালার ২(ছ) ধারায়ও দুদক কার্যালয়ে দুর্নীতি মামলার এজাহার দায়েরের সুযোগ ছিল। কিন্তু পরে বিধিমালায় সংশোধনী না আনায় সেটি আর কার্যকর হয়নি।

সূত্র জানায়, বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবে নিজ দফতরে মামলা ছাড়াও রায় হওয়ার আগেই আসামির সম্পদ ক্রোকের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশেষ জজ আদালতে সরাসরি মামলার চার্জশিট দাখিলের সুযোগ যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ক্রোকের সম্পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় দুদক। নিয়োগ দিতে চায় রিসিভার।

ওই সম্পদ পাহারার কাজটিও করবে দুদক। এ বিষয়ে দুদক বিধিমালায় সংশোধনীর যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রস্তাবে বলা হয়, ‘দ্য ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৮-এর ৯ ধারা অনুযায়ী দুর্নীতি মামলার আসামি দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি অবৈধভাবে যে পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন, তা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। কিন্তু রায়ের আগে আসামির ওই সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার বিধান নেই।

এছাড়া আসামির সাজা হওয়ার আগেই তার অবৈধ সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর ও বেহাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’ দুদক কর্মকর্তারা বলেন, রায়ের আগে দুর্নীতিলব্ধ সম্পদ ক্রোক এবং রায়ের পর তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। তবে কোনো আসামি যদি বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত হন তবে তার সম্পদের ওপর থেকে ক্রোক আদেশ তুলে নেয়া হবে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by