logo

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলকদ ১৪৩৯

'মানসিক স্বাস্থ্য আইন মনোস্বাস্থ্য সেবায় শৃঙ্খলা আনবে'
১৯ জুলাই, ২০১৮
‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’ দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনবে এবং মানসিক রোগীদের অপেক্ষাকৃত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে এমন অলাভজনক সংগঠন ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ এর ভাইস চেয়ারপারসন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, এই আইন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা খাতে শৃঙ্খল আনার মাধ্যমে মানসিক রোগীদের জন্য আরো উন্নত সেবা নিশ্চিত করবে।

অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, আইনে লাইসেন্স ছাড়া মানসিক রোগীদের জন্য ক্লিনিক স্থাপন না করার বিধান এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে।

দেশে মানসিক রোগীদের সার্বিক কল্যাণ এবং তাদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রীসভায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের দু’দিন পর তিনি এ মত প্রকাশ করলেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ও নিউরো সায়েন্স (এনআইএমএইচএএনএস)-এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামালের মতে এই আইন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এই আইনের ফলে এখন আর কেউ মানসিক রোগীকে অপরাধ সংগঠনে উস্কানি দেওয়ার সাহস করবে না।

এ আইনের বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই আইন শতভাগ বাস্তবায়ন করা হলে স্বাস্থ্য সেবা খাত আমূল পাল্টে যাবে। এই আইনটি ১০৫ বছরের পুরানো ‘পাগলামী আইন, ১৯১২’-এর স্থলাভিষিক্ত হবে। এ আইনে মানসিক রোগীকে পরিচর্যা সেবা প্রদান সম্পত্তি ও পুনর্বাসনের অধিকর সংরক্ষণ ও সার্বিক কল্যাণের কথা বলা হয়েছে।

এই আইনে মানসিক রোগীকে অপরাধ সংগঠনের উসকানি এবং লাইসেন্স ছাড়া মানসিক হাসপাতাল স্থাপনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা এবং মানসম্মত সেবা প্রদানে বেসরকারি খাতেও হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে।

এই আইনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভূয়া মানসিক রোগীর সনদ প্রদানের জন্য তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া মানসিক রোগীর চিকিৎসা, দেখভাল অথবা তার সম্পদের তালিকা প্রণয়নে অবহেলা কিংবা মানসিক রোগীর অধিকার রক্ষায় আদালতের আদেশ মানতে ব্যর্থ হলে মানসিক রোগীর অভিভাবক বা ব্যবস্থাপককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by