logo

রোববার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলকদ ১৪৩৯

৩০ বার আবেদন করেও চাকরি পাননি জ্যাক মা
২২ জুলাই, ২০১৮
চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছেন। দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি কম্পানিতে আবেদন করেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন; কিন্তু চাকরি হয়নি। মা-বাবার সেই হতভাগ্য সন্তান জ্যাক মা একসময় ভেবেই নিয়েছিলেন তাঁর আর চাকরি হবে না। কিন্তু সেই জ্যাক মা যে চীনের হাজার হাজার তরুণের চাকরিদাতা হয়ে উঠবেন, তা কে জানত?

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উদ্যোক্তা চীনের জ্যাক মা। তিনি আলিবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান। অনলাইন ব্যবসায় পশ্চিমা দেশগুলো যখন এগিয়ে তখন এশিয়ার এ উদ্যোক্তা তাদেরও একধাপ ছাড়িয়ে গেছেন। এশিয়া থেকে শুরু করে পুরো বিশ্বে এখন আলিবাবার ই-কমার্স। আলিবাবার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি মানুষ কেনাকাটা করে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এ কম্পানির বার্ষিক রাজস্ব ৩৯.৮৯৮ বিলিয়ন ডলার। আলিবাবায় কাজ করে ৬৬ হাজার ৪২১ জন কর্মী।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৮ সালের বিলিয়নেয়ারের তালিকায় জ্যাক মার সম্পদের পরিমাণ হয় ৩৯ বিলিয়ন ডলার। তিনি বিশ্বের ২০তম ও চীনের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। তবে সর্বশেষ হিসাবে তাঁর সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৪২.৭ বিলিয়ন ডলার। ফরচুন ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের বিশ্বের ৫০ গ্রেটেস্ট লিডারের মধ্যে জ্যাক মা দ্বিতীয়। তিনি চীনা ব্যবসার বৈশ্বিক অ্যাম্বাসাডর।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জ্যাক মা জানান, তাঁর এই সাফল্যের পেছনে ছিল বিশাল ব্যর্থতা। তিনি হন্যে হয়ে ছুটেছেন চাকরির জন্য। আবেদন করেছিলেন ৩০টি কম্পানিতে। যার মধ্যে ছিল কেএফসির মতো প্রতিষ্ঠানও। কিন্তু সব জায়গা থেকেই হতাশ হয়ে ফিরতে হয়। এমনকি কলেজ প্রবেশিকা পরীক্ষায়ও তিনবার অকৃতকার্য হন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি পুলিশে চাকরির জন্য যাই। তারা বলল আমি উপযুক্ত নই। এরপর নিজ শহরে যখন মার্কিন প্রতিষ্ঠান কেএফসি আসে, তখন আমিসহ ২৪ জন সেখানে চাকরির জন্য যাই। বাকি ২৩ জনেরই চাকরি হয়; কিন্তু আমিই ছিলাম একমাত্র ব্যক্তি, যার চাকরি হয়নি।’

জ্যাক মা ১৯৯৯ সালে যখন আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেন, সে সময় আরো বেশি বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। প্রতিষ্ঠার প্রথম তিন বছরেও লাভের মুখ দেখতে পায়নি তাঁর প্রতিষ্ঠান। এ ব্যর্থতা তাঁকে আরো সৃজনশীল হতে বাধ্য করে। বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিষ্ঠানের অর্থ লেনদেনের কোনো ব্যবস্থা না থাকা। এর ওপর কোনো ব্যাংকই আলিবাবার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিল না। এ কারণেই নিজস্ব অর্থ লেনদেন সেবা ‘আলিপে’ চালুর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিভিন্ন মুদ্রায় অর্থ লেনদেনের সেবা সরবরাহ করা হয় এর মাধ্যমে। এমনকি প্রথম অবস্থায় অনেকেই আলিপে চালুর বিষয়টিকে জ্যাক মার ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করলেও বর্তমানে ৮০ কোটি মানুষ আলিপে ব্যবহার করছে।

জ্যাক মার সাফল্যের পেছনে যেমন বিস্ময়কর তথ্য আছে, তেমনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত আলিবাবার নামের পেছনেও দারুণ রহস্য আছে। ড্রামা সিরিয়াল আলিফ লায়লার মাধ্যমেই মানুষ আলিবাবা এবং ৪০ চোরের কাহিনি জানে। বিশেষ করে আরব্য রজনীর এ কাহিনি আরবের সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট। এর পরও এ নামটি জ্যাক মা কেন পছন্দ করলেন এ সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য আছে। চীনের উদ্যোক্তা জ্যাক মা ১৯৯৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হ্যাংগচু শহরে জন্মগ্রহণ করেন। দেশের মানুষের কাছে তিনি বড় দয়ালু হিসেবেও পরিচিত। ফোর্বস, ফরচুন, ব্লুমবার্গ।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by