logo

রোববার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলকদ ১৪৩৯

জামায়াত-হেফাজত এখন বুলবুলের দুর্ভাবনার কারণ
২২ জুলাই, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর মতিগতি বুঝতে পারছে না বিএনপি। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে বৈতরণী পার হতে সাহায্য করা ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামীকেও পাশে পাচ্ছে না তারা। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের মোকাবেলায় দুর্ভাবনা কাটছে না দলটির।

২০০৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে ২০১৩ সালে বেশ বড় ব্যবধানে হারান বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এমনিতেই বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান থাকা মহানগরে জামায়াতের ভোটও আছে উল্লেখযোগ্য। সেই সঙ্গে ওই বছর রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজত কর্মীদেরকে উচ্ছেদের পর ছড়ানো নানা গুজব আর বিএনপির পক্ষ নিয়ে সংগঠনের কর্মীদের আবেগী বক্তব্য বুলবুলের জয়ের কারণ হয়।

গত দুই নির্বাচনের মতো নগরে আবার মুখোমুখি লিটন ও বুলবুল। এবার বিএনপি নেতাকে লড়তে হচ্ছে একা। কারণ তিনি জামায়াত আর হেফাজতকে পাশে পাচ্ছেন না।

দলের কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে বিএনপির সমর্থন না পেয়ে মেয়র পদে বুলবুলের পক্ষে নেই জামায়াত। অন্যদিকে হেফাজতের কর্মীদেরকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের আশপাশে দেখা যাচ্ছে।

হেফাজত মূলত কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের সংগঠন। আর নগরে এই মাদ্রাসার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। ফলে তাদেরও বেশ ভালো ভোট আছে।

ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম একটি ইস্যুভিত্তিক সংগঠন। এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সুতরাং তারা যে কোনো ইস্যু নিয়েই মাঠে থাকতে পারে। নির্বাচনকে যদি তারা ইস্যু মনে করে তবে তারা যাকে পছন্দ করবে তার জন্যই কাজ করবে, এটা স্বাভাবিক।’

নগরীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষক, যিনি রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রথম কাতারে থাকেন তিনি এই নির্বাচন নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

ওই শিক্ষক বলেছেন, তারা রাজনৈতিক দলের মতো কোনো ‘আচরণ’ করতে চান না। শুধু ইসলামের জন্যই কাজ করতে চান। গত নির্বাচনের আগে ৫ মে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণেই তারা মাঠে নেমেছিলেন। তবে সেই ইস্যু শেষ হওয়ায় এবার নির্বাচনের দিকে তাদের আপাতত মনোযোগ নেই।

হেফাজতের এই নেতা বলেন, ‘এবার সিটি নির্বাচন নিয়ে সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের কিছুটা আগ্রহ রয়েছে। এই নির্বাচনে তাদের করণীয় কি তা জানতে ওই কর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। তিনি বলেছেন, যার যাকে পছন্দ, সে তাকে ভোট দেবে।’

‘এক্ষেত্রে অনেকেরই পছন্দ ইসলামিক দলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। হেফাজতের উৎসাহী এসব কর্মীরাই তার পক্ষে কাজ করছেন, প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।’

জামায়াত-বিএনপি দূরে দূরে

দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে একাট্টা বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কে ফাটল সিলেটের পাশাপাশি রাজশাহীতেও স্পষ্ট। সিলেটে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর বিপরীতে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে। আর রাজশাহীতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেও সিদ্দিক হোসেনকে দাঁড় করায়নি দলটি।

তবে দলের ১৪টি সাধারণ ওয়ার্ডে ও দুটি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে তাদের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে বিএনপিকে সরে দাঁড়ানোর শর্ত দিয়েছিল দলটি। কিন্তু বিএনপি তাদের এই আবদারে পাত্তা দেয়নি। আর ‘অভিমানেই’ কাউন্সিলর নির্বাচনে ব্যস্ত জামায়াত মাথা ঘামাচ্ছে না মেয়র নির্বাচনে।

এর মধ্যে শুক্রবার রাতে মহানগর জামায়াতের আমির আবু মো. সেলিম এবং নগরীর মতিহার থানা আমির ওয়ালিউল ইসলাম টিপুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েকদিন আগে আবু মো. সেলিম বলেছিলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি তাদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনায় বসেনি। তাই তারা নিষ্ক্রিয়।

বুলবুলের নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী ২০ দলীয় জোটের হলেও জামায়াত আমাদের হয়ে নির্বাচনের কাজ করছে না।’

জামায়াতকে পাশে না পেয়ে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, কেবল কাউন্সিলর নির্বাচন নয়, অন্য কোনো কারণ রয়েছে এর পেছনে।

অবশ্য বিএনপি সমর্থকদের আশা, শেষ পর্যন্ত অভিমান ভুলে তাদের বাক্সেই পড়বে জামায়াত সমর্থকদের ভোট। দলটি তাদের রাজনৈতিক ‘শত্রু’ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে, এটা কোনোভাবেই সম্ভব বলে মনে করছেন না তারা। তবে মেয়র পদে কাউকে ভোট না দিলে কী হয়, সেটা নিয়ে ভাবনা আছে বিএনপিতে।

রাজশাহীতে জামায়াতের শক্তি পরীক্ষিত। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাদের প্রার্থীই এখানে দ্বিতীয় হয়েছিল। অবশ্য ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত এই আসনে তৃতীয় হয়। তারপরেও তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছিল।

তবে ১৯৯৯ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ হওয়ার পর রাজশাহীতে কোনো নির্বাচনে জামায়াতের আলাদা প্রার্থী ছিল না। ফলে তাদের সব শেষ সমর্থন কত, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিসংখ্যান দেয়া কঠিন। তবে নেতারা দাবি করেন, ২০১৩ সালে লিটন ও বুলবুলের মধ্যে যে ব্যবধান ছিল, তার চেয়ে তাদের ভোট এখানে বেশি।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by