logo

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ০৫ জিলহজ ১৪৩৯

ঢাকাকে বাঁচাতে সমন্বিত পরিকল্পনার জন্য দরকার ওয়ার্কিং কমিটি
১৭ আগস্ট, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট, লন্ডনের গবেষণায় ঢাকাকে বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য দ্বিতীয় শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৫টি বিষয়কে বিশ্লেষণ করে শহরগুলোর বসবাসের যোগ্যতা অযোগ্য বিশ্লেষণ করা হয় উল্লেখ করে ঢাকা বাঁচাতে সমন্বিত পরিকল্পনার জন্য দরকার ওয়ার্কিং কমিটি বলে মত দিয়েছেন আলোচকরা।

শুক্রবার রাজধানী কলাবাগানস্থ নিজস্ব কার্যালয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘অবসবাসযোগ্য নগরীর তালিকায় অন্যতম ঢাকা : উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এমন অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।


তারা বলেন, ৫টি বিষয়কে বিশ্লেষণ করে শহরগুলোর বসবাসের যোগ্যতা অযোগ্য বিশ্লেষণ করা হয়। বিষয়গুলো হলো- অবকাঠামো স্থিতিশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ।

ঢাকাকে বাঁচানো জরুরি। এজন্য একটি কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট ৫৪টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং নগর পরিকল্পনাবিদ পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জন অধিকার বিশেষজ্ঞ প্রমুখের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ওয়ার্কিং গঠন করতে হবে। নইলে ঢাকা শহরকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।

মূল বক্তব্যে বলা হয়, ঢাকা গত ৭ বছর যাবত বসবাসেরর অযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ নম্বরে উঠা-নামা করছে। আমরা ঢাকার বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে লক্ষ্য করি ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৬৩ ভাগ। এ শহরে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ২ লাখ লোক বাসবস করে। শহরে বসবাসকারী জনসংখ্যার ৪০ ভাগ হচ্ছে ঢাকায়। দেশের জিডিপির ৩৫ শতাংশ ঢাকা থেকে আসে এবং দেশের সামগ্রিক কর্ম সামর্থ্যরে ৩০ ভাগ ঢাকাতে বসবাস করে। ঢাকার বস্তিগুলোর জনঘনত্ব বাংলাদেশের একটি সাধারণ গ্রামের তুলনায় ৩০ ভাগ বেশি। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকার অবস্থাকে বিশ্লেষণ করতে হবে।

আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ কতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকুলের একটি বড় অংশ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জনগোষ্ঠীর বিশাল একটি অংশ জলবায়ু উদ্বাস্তু হিসেবে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। পানি ও জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষিতে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেবে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও গৃহ নির্মাণ ব্যবস্থাপনাসহ সর্বক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। খেলার মাঠ, পার্ক, জলাধারসহ পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় আমরা মনে করি ঢাকা মহানগরী শুধু বসবাসের একটি অযোগ্য নগরই নয় এটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

ঢাকাকে বসবাসযোগ্য করতে পবা’র পক্ষ থেকে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে দুই সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, ঢাকা মেট্রো পলিটান পুলিশসহ ঢাকা নগর সংশ্লিষ্ট ৫৪টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে শক্তিশালী একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে বসবাসযোগ্য ঢাকার একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে। এই ওয়ার্কিং কমিটিতে শহরে বসবাসের উপযোগীতার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞগণ যেমন নগর-পরিকল্পনাবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবাদীসহ এ সম্পর্কিত বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ যুক্ত থাকবেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় সরকার এবং জনগণ যুক্ত থাকবে। এই বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, নাসফ-এর সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, গ্রীণ ফোর্সের সমন্বয়ক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন, নবযাত্রা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. আজমল হোসেন প্রমুখ।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by