logo

মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৭ ভাদ্র ১৪২৫, ৩০ জিলহজ ১৪৩৯

আইনমন্ত্রীর সেই বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কারাভ্যন্তরে আদালত স্থাপনকে বেআইনি বলায় তার আইনজীবীরা আইন জানেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। কিন্তু আইনমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য অপমানজনক হওয়ায় তা প্রত্যাহার চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার চান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি কর্তৃক এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জয়নুল আবেদীন বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন অতীতে দেশের আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং বিচার ব্যবস্থা সমুন্নত রাখায় ভূমিকা রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। আপনারা জানেন, কয়েক দিন আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে এক গেজেটের মাধ্যমে কারাগারের কক্ষে একটি আদালত স্থাপন করেছেন। যা সংবিধানের আর্টিকেল ৩৫(৩)এবং ফৌজদারি কার্যবিধির আইনের ৩৫২ ধারার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ‘‘ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিমেসির কথা উল্লেখ আছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রধান বিচারপতি ‘সংবিধানের অভিভাবক’। তাই আমরা মনে করেছি এই গেজেট নোটিফিকেশনটি সুপ্রিম কোর্ট রুলস-এর রুল ১৯(বি)(এ), ১৯৭৩ এবং সংবিধানের আর্টিকেল ১১৬ অনুযায়ী করা হয় নাই। আমরা প্রধান বিচারপতির নিকট আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি আবেদন করেছি এবং তিনি আমাদের আবেদনটি আইন মোতাবেক নিষ্পত্তি করবেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন।’’

এর আগে খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কারাভ্যন্তরে আদালত স্থাপনকে বেআইনি বলে বক্তব্য দেন তার আইনজীবীরা। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, তার আইনজীবীরা আইন জানেন না।

গত ৯ সেপ্টেম্বরের আইনমন্ত্রীর ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে কোনো আবেদন-নিবেদন করিনি। আমাদের প্রধান বিচারপতির নিকট দেওয়া আবেদনে আমরা আইনের কোন কোন দিক উল্লেখ করেছি তা একমাত্র প্রধান বিচারপতির বিবেচনার জন্য দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে এই সময় সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সিরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলীসহ বেশ কয়েকজন নাম করা আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। যারা উপস্থিত ছিলেন প্রত্যেকেই এই বারের প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশের দেশ বরেণ্য আইনজীবী। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আইনমন্ত্রীর একটি উক্তি “খালেদার আইনজীবীরা আইন জানেন না” অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক।’

আইনমন্ত্রী প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিনি একজন আইনজীবী, আইনমন্ত্রী এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তি। কাজেই তার কাছ থেকে দেশের মানুষ তথা আইনজীবীরা এরকম বক্তব্য আশা করে না। আমরা মনে করি তার এই বক্তব্য বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য অপমানজনক। অতীতে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করে অনেকেই সদস্যপদ হারিয়েছেন। যা হোক, আমরা আপনাদের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীকে দেশের আইনের শাসনের এবং দেশ বরেণ্য আইনজীবীগণের প্রতি এ ধরনের অসৌজন্যমূলক বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি তিনি, এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইন এবং আইনজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন।’

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সিনিয়র সহ সম্পাদক কাজী মো.জয়নুল আবেদীন, সদস্য মাহফুজ বিন ইউসুফ, ব্যারিস্টার শফিউল আলম মাহবুব, আহসান উল্লাহ,মেহেদী হাসান, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমানসহ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by