logo

বৃহস্পতিবার , ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫, ৭ সফর ১৪৪০

তিতাসে চলছে শুদ্ধি অভিযান
১৮ অক্টোবর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
গ্যাসবিতরণ কোম্পানি তিতাসে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। যদিও এর আগে তিতাসের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হতো না। এরে ফলে দুর্নীতিবাজরা বরাবরই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যেতো। কিন্তু দুই দিনে এই চিত্র বদলে গেছে। বুধবার (১৭ অক্টোবর) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে ৫ কর্মকর্তাকে। ২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পেট্রোবাংলার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সাত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কোম্পানি। এছাড়া ২২ জনকে বদলি করা হয়েছে। যার মধ্যে ১১ জনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই অভিযানে সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। চেষ্টা করছি। যদি এখানে কেউ খারাপ কিছু করে, তাহলে আমরা দেখে-শুনে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনও মানুষকে শোকজ না করে তো কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। সংবিধান অনুযায়ী মানুষের নিজের অবস্থার ব্যাখ্যা করার অধিকার মানুষের রয়েছে। আমরা চাকরিবিধি অনুযায়ী কাজ করছি। পরিবর্তন কিছু দরকার আছে।’

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমরা সবমিলিয়ে সাতজনকে শোকজ করেছি। এরমধ্যে বরখাস্ত করা ৫ ছাড়াও দুই জন জিএম আছেন। জিএম দুই জনকে বরখাস্ত করতে গেলে বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তাই, তাদের শুধু শোকজ করা হয়েছে। এরপর কোনও ব্যবস্থা নিতে গেলে বোর্ডের অনুমতি লাগবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পেট্রোবাংলা একটি তদন্ত কমিটি করেছিল। সেই কমিটির তদন্তের আলোকেই ব্যবস্থা নিতে তিতাসকে নির্দেশ দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরাখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে। করপোরেশন যদি কোম্পানিকে কোনও নির্দেশ দেয়, তাহলে সেটি পালনীয় বিষয়। তাই আমরা করপোরেশনের নির্দেশ ও তিতাসের চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বদলির বিষয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘অনেকে একই পদে ছয় থেকে সাত বছর আছেন। আমাদের গ্রাহক সেবার মানও কিছুটা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করেই এই বদলি করা হয়েছে। মাঝে মাঝে এই পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকসেবার মানও কিছুটা উন্নত হয়।’

তিতাসের নয় কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ

তিতাস সূত্র বলছে, আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও বেনামে সিএনজি স্টেশন নির্মাণ করে মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস চুরির অভিযোগ ছিল তিতাসের তাস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আর ছয় থেকে সাত বছর একই জায়গায় চাকরি করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল তিতাসের কিছু কর্মকর্তা।

এরআগে বুধবার (১৭ অক্টোবর) আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে তিতাসের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে আরও দুই জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পেট্রোবাংলার কাছে নথি পাঠিয়েছে কোম্পানিটি। এই সাত কর্মকর্তাকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিতাসের তদন্তে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। এরমধ্যে ৫ অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরও দুই জনকে শোকজ করা হয়। সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া পাঁচ কর্মকর্তা হলেন—উপ-মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. আব্দুর রশিদ, ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. হুমায়ুন কবির খান, উপ-ব্যবস্থাপক (বেতন ও তহবিল বিভাগ) নাজমুল হক, মিটারিং ও ভিজিল্যান্স টিমের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মহিদুর রহমান ও পাইপলাইন নির্মাণ বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা খান।

তিতাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘শোকজ করা নতুন দুই জনের মধ্যে একজন বর্তমানে তিতাসের ডিএমডি (গাজীপুর) হিসেবে কর্মরত আবদুল ওয়াহাব এবং অন্যজন তিতাসের সাবেক পরিচালক (অর্থ) ও বর্তমানে বাপেক্সে কর্মরত জিএম শংকর কুমার দাস।’

তিতাসের ১১ কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড-রিলিজের আদেশ

তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সূত্র জানায়, প্রতিমাসে গ্রাহক যে বিল দিয়ে তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ও জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে জমা রাখতে হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ও জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে, সরকারি কোনও ব্যংকে এই অর্থ রাখতে হবে। কিন্তু তিতাসের হিসাব বিভাগের পাঁচ কর্মকর্তা সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা একটি বেসরকারি ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখায় রেখেছিলেন। তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মশিউর রহমান অবসরে যাওয়ার পর সম্প্রতি পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামালকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব নিয়েই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেন।

বদলি হওয়া ২২ জনের মধ্যে ১১ জনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন মিটারিং ‍ও ভিজিল্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আনোয়ার পারভেজ, সোনারগাও আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান, একই অফিসের উপ ব্যবস্থাপক মো. আবু রায়হান, মেট্রো ঢাকা বিপণন বিভাগ-৪ এর উপ ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী বরুন কুমার রায়, আঞ্চলিক বিক্রয় অফিস নরসিংদীর উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তাইফুর রহমান, আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ সাভারের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সুমন দাশ, আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ-সোনারগাঁও-এর উপ-ব্যবস্থাপক আবুল কালাম ভুইয়া, মিটার ও ভিজিল্যান্স শাখার উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার, আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ-সোনারগাঁও-এর সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজাদ, একই অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোশাররফ হুসাইন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কাউছার আলম পলাশ।

তিতাসের দুই কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ

এছাড়া বদলি হওয়া ৯জনকে অবিলম্বে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ-নারায়ণগঞ্জের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মফিজুল ইসলাম, একই অফিসের মিটারিং অ্যান্ড ভিজিল্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শাহীদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দফতরের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শেখ মনজুর আহমেদ, জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল শাখার উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, আঞ্চলিক বিক্রয় অফিস-গাজীপুরের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মিজবাহ উর রহমান, আঞ্চলিক বিক্রয় অফিস-সাভারের উপ ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী হাদী মোহম্মদ আবদুর রহিম, অপারেশন কন্ট্রোল বিভাগের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, আঞ্চলিক বিক্রয় অফিস-সাভারের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শাকিল মণ্ডল ও আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ-গাজীপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদুল হক।

এছাড়া আরও দুজনকে ছাড়পত্র গ্রহণ করে নতুন জায়গায় যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন টিঅ্যান্ডটি শাখা-ডেমরা, সিস্টেম অপারেশন বিভাগ-দক্ষিণের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. তওহিদুল ইসলাম।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by