logo

শনিবার ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০৫ কার্তিক ১৪২৫, ০৯ সফর ১৪৪০

মাঠ আ’লীগের দখলে অপেক্ষায় বিএনপি
২০ অক্টোবর, ২০১৮
নিউজ ডেস্ক
মীরসরাই উপজেলা নিয়ে চট্টগ্রাম-১ আসনটি দৃশ্যত আওয়ামী লীগের দখলে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত মীরসরাইয়ের বিএনপি নেতারা নানামুখী চাপের মধ্যেও কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়। গত ১০ বছর ধরে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও স্বাধীনতার পর ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৫ বার আওয়ামী লীগ এবং ৫ বার বিএনপি জয়লাভ করে। জনপ্রিয়তার দিক থেকে কোনো দলই পিছিয়ে নেই।


তবে বর্তমান সরকার এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এই অর্থনৈতিক জোনকে ঘিরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ ইস্যুটি আওয়ামী লীগকে বাড়তি সুবিধা করে দিতে পারে। এলাকায় জাতীয় পার্টিরও অনেক কর্মী-সমর্থক রয়েছে। যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারলে জাতীয় পার্টিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অধ্যাপক এমডিএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী পান ৯৪ হাজার ৬৬৫ ভোট। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপি হন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। আগামী নির্বাচনে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই উজ্জ্বল বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে মনোনয়ন দৌড়ে আওয়ামী লীগের আরও ৩ জন নেতা মাঠে।

নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিএনপি মাঠে না নামলেও কৌশলে তারা মাঠে আছেন। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহও তৈরি হয়েছে বেশ। এ পর্যন্ত ৯ জন বিএনপি নেতা মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। দলের মধ্যে কোন্দলের কারণেই বিএনপির প্রার্থীর সংখ্যা বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা। জামায়াতেরও একজন প্রার্থী রয়েছেন এ আসনে। তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই লড়াই জমে উঠতে পারে।

আওয়ামী লীগ : দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইতিমধ্যে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। তার বিকল্প হিসেবে তার মেজো ছেলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মাহবুব রহমান রুহেলও প্রস্তুত। মনোনয়নে আগ্রহী মীরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের নামও আলোচনায় রয়েছে।

জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মনোনয়নের বিষয়টি দলের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ঠিক করবেন। দল মনোনয়ন দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, অন্য কাউকে দিলে তার পক্ষে কাজ করব।’ তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর টানা ক্ষমতায় থেকে মীরসরাইয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছি। এখানেই নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে কর্মসংস্থান হবে কমপক্ষে ৩০ লাখ লোকের। এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মীরসরাইয়ের লোক কাজ পাবে।

এলাকার রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে, যা স্বাধীনতার পরবর্তী ৩৫ বছরেও হয়নি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাবে বিএনপি। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয় নিশ্চিত।’ আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী গিয়াস উদ্দিন এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। প্রার্থিতা নিয়ে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি মনোনয়ন চাইব। তবে অন্য কাউকে দিলে অবশ্যই দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।’

দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী নিয়াজ মোর্শেদ এলিটও এখন আলোচনায়। তিনি বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। যদিও মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে এলিট বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। মানুষের জন্য কাজ করাই আমার লক্ষ্য। বড় পরিসরে কাজ করতে দলের কাছে মনোনয়ন চাইব।’

বিএনপি : আসনটিতে অন্তর্কোন্দল বিএনপির মূল সমস্যা। স্থানীয় বিএনপি ইতিমধ্যে বহু ভাগে বিভক্ত। কোন্দলের জেরে অন্তত ৯ জন নেতা দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। গত নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী। এবারও মনোনয়ন দৌড়ে তিনিই এগিয়ে। গুঞ্জন রয়েছে, তিনি কোনো কারণে নির্বাচনে না এলে তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন চৌধুরী মনোনয়ন চাইতে পারেন।

এদিকে দলীয় হাইকমান্ড থেকে দলের টিকিট পেতে আরও সাতজনকে তৎপর দেখা যাচ্ছে। তারা হলেন : জাসাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন, বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত (সাময়িক বহিষ্কৃত) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ ও উপাধ্যক্ষ আতিকুল ইসলাম লতিফী, সংস্কারপন্থী হিসেবে সম্প্রতি বিএনপিতে ফেরা খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল জেডএ খান। এ ছাড়া বিএনপি থেকে এলডিপিতে যোগ দেয়া সাবেক এমপি এমএ জিন্নাহ জাতীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির মামলা-হামলা হুলিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সব নেতাকর্মীকে সহযোগিতা করা ছাড়াও দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করছি। কৈশোর থেকে শহীদ জিয়ার আদর্শই লালন করি, যারা দলীয় আদর্শ নয় শুধু ক্ষমতার স্বাদ পেতে চায় তাদের বাদ দিয়ে যোগ্য নেতৃত্বকে মনোনয়ন দিলে দলের ভিত্তি মজবুত হবে।

নুরুল আমিন বলেন, দলীয় ফোরামের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে তারা নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে থাকেন না। তাই এলাকার উন্নয়ন ও দলের প্রতি ত্যাগ ও আনুগত্য আছে এমন কাউকে মনোনয়ন দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পারভেজ সাজ্জাদ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি করে বলেন, শিগগির দেশে ফিরছি। এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তাদের সুখে-দুঃখে আছি। জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম লতিফী বলেন, দীর্ঘদিন দলের ভালোমন্দ সবকিছুতেই নিবেদিতভাবে আছি, থাকব। কিন্তু মনোনয়ন প্রশ্নে দলের ত্যাগী সংগঠক হিসেবে মূল্যায়ন পাওয়ার দাবিদারদেরই বিবেচনা করা উচিত বলে আমি মনে করি।

জামায়াত, জাপা, বামদল : সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সাইফুর রহমান জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টিও এখানে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু মিলছে না যথাযথ অভিভাবক। বামদলগুলো তাদের সব কর্মসূচি আগের চেয়ে বেগবান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া সাম্যবাদী দল থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে বাম নেতারা জানান।

সর্বশেষ খবর

আজকের পত্রিকা. কমের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by